আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌সেরা প্রভাবশালী ১০০ জন’। টাইম ম্যাগাজিনের তালিকার প্রসঙ্গে বিতর্ক ভারতবর্ষে। ‘‌মোদির নাম তালিকায় কেন রয়েছে সেকথা কেন উল্লেখ করছে না দেশের সংবাদমাধ্যমগুলি?‌’ প্রশ্ন তুললেন নেটিজেনরা। ‌
আমেরিকার ‘‌টাইম’ ম্যাগাজিন ২০২০ সালের প্রভাবশালী মানুষদের ১০০ জনের একটি তালিকা তারা তৈরি করেছে। একেকজন সাংবাদিক বা বিশিষ্ট ব্যক্তির চোখে ব্যক্তিটির একটি মূল্যায়নও করা হয়েছে। এবারে সেই নিয়ে ভারতবর্ষে তৈরি হল বিতর্ক। এদেশের যেক’‌জনের মধ্যে নাম রয়েছে তাঁরা হলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শাহিনবাগের প্রতিবাদী ৮২ বছরের বিলকিস, বলিউড অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা, গুগল কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই, ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক রবীন্দ্র গুপ্তা। দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মোদির নাম আমেরিকার ম্যাগাজিনে ওঠার পর অনেক সংবাদসংস্থাই সেই নিয়ে খবর করেছে। কিন্তু বিতর্ক উঠছে, কেন শুধু এ’‌টুকুই বলা হচ্ছে যে মোদির নাম সেই তালিকায় রয়েছে?‌ সাংবাদিক কার্ল ভিকের মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে না কেন! ‘‌তাহলে কি দেশের সাংবাদিকতার পরিস্থিতি এখন এটাই!‌’ যখন ‘‌ইন্ডিয়া টুডে’ টুইটারে একটি পোস্টে লেখে, ‘‌টাইম’ ম্যাগাজিনের ‌‘‌২০২০ সালের ‌সেরা প্রভাবশালী ১০০ জন’– তালিকায়‌‌‌‌ জায়গা করে নিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্যস। বিতর্কের শুরু সেই তখনই। শুরু হয় সমালোচনা। পোস্টটির কমেন্ট বক্সে হোক বা শেয়ার করে হোক, সকলে একটাই প্রশ্ন করলেন, ‘‌ইন্ডিয়া টুডে’ কি আদৌ রিপোর্টটি পড়েছে নাকি কেবল তালিকায় নাম দেখেই স্তুতি গাইতে শুরু করে দিয়েছে?‌‌ ফের একে একে নাম উঠতে থাকে অন্যান্য সংবাদসংস্থাগুলিরও। ‘‌ইকোনমিক টাইমস’‌, ‘এনডিটিভি‌’, ‘‌নিউজ এইটিন’‌, ‘দ্য প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া‌’‌, ‘দ্য হিন্দুস্তান টাইমস’‌, ‘‌এবিপি নিউজ’‌‌– এর মতো প্রথম দেশের প্রথম সারির সংবাদসংস্থাগুলির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, কেউ সঠিক কোনও খবর প্রকাশ করেনি। কেউ কেবল এ’‌টুকুই বলেছে যে মোদির নাম এই তালিকায় উঠেছে। কেউ বা কেবল আয়ুষ্মান খুরানাকে নিয়ে লিখেছে, কেউ কার্ল ভিকের লেখার প্রথম স্তবকটি উল্লেখ করেছে, কিন্তু যেখানে মোদির সমালোচনা করা হয়েছে, সেই জায়গাটিকে বেমালুম এড়িয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার মোদির নাম যে তালিকায় এসেছে, সে’‌টুকুও বলা হয়নি।
কার্ল ভিক তাঁর লেখার প্রথমে ভারতবর্ষের কথা লিখেছেন। কেন ভারতবর্ষ অনেক দেশের থেকে আলদা, দলাই লামা পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এদেশে পা রেখে। তারপর.‌.‌.‌ কার্ল ভিকের লিখলেন, কীভাবে একটা দেশের মুসলিমদের ক্রমাগত আক্রমণ করে করে তাঁদের কোণঠাসা করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সম্প্রীতি ও ঐক্যের জন্যেই ভারতের সুনাম ছিল। কিন্তু মোদি একার হাতে সেই গুণাবলীকে নষ্ট করেছেন। কার্ল লিখেছেন, দেশের প্রায় সমস্ত প্রধানমন্ত্রীই হিন্দু ধর্মালম্বী ছিলেন। কিন্তু মোদিই প্রথম বাকিদের অস্তিত্বটাকে অস্বীকার করেছেন। দেশের গণতন্ত্রকে গভীর অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছেন মোদি।

 

জনপ্রিয়

Back To Top