আবু হায়াত বিশ্বাস
দিল্লি, ১২ জুলাই

এবার রাজস্থানেও টলোমলো দশায় কংগ্রেসের সরকার।‌ রাজস্থানে শচীন পাইলট বনাম‌ অশোক গেহলট দ্বৈরথ চরমে। ঘোর দুশ্চিন্তায় কংগ্রেস শিবির। মধ্যপ্রদেশের পর হাতছাড়া হবে আরও একটি রাজ্য?‌ বিজেপি যোগাযোগ রাখছে শচীন পাইলটের সঙ্গে, এমনই খবর। বলাই বাহুল্য, বিজেপি–‌কে এই সুযোগ করে দিয়েছে কংগ্রেসের অন্তঃকলহ। 
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট অভিযোগ করছেন, রাজ্যে কংগ্রেস সরকার ফেলতে বিধায়কদের কোটি কোটি টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে বিজেপি। আর, উপমুখ্যমন্ত্রী এবং প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শচীন পাইলটের অভিযোগ, গোহলট তাঁকে ক্রমাগত কোণঠাসা করছেন। অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে দিল্লিতে হাজির শচীন। সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সময় চেয়েছেন তিনি। আবার বিজেপি শিবিরের সঙ্গেও কথা চালাচ্ছেন বলে একটি সূত্রের খবর। ২৫–‌‌৩০ জন বিধায়ক নাকি রয়েছেন তাঁর পেছনে। কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব মরিয়া, রাজস্থানও যাতে বেরিয়ে না যায় হাত থেকে। ওদিকে জয়পুরে সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে কংগ্রেস বিধায়ক দলের বৈঠক ডেকেছেন গেহলট। রাজস্থান সঙ্কট নিয়ে উদ্বিগ্ন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা কপিল সিবাল। টুইট করেছেন, ‘দলের জন্য চিন্তা হচ্ছে। ঘোড়া আস্তাবল ছেড়ে পালিয়ে গেলে তবেই কি ঘুম ভাঙবে আমাদের?’‌ উল্লেখ্য, এদিনই মধ্যপ্রদেশের এক কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপি–‌তে যোগ দিয়েছেন। 
এদিন খবর ছড়ায়, প্রায় দু’‌ ডজন অনুগামী বিধায়ককে নিয়ে শচীন পাইলট বিজেপি শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। আবার অন্য একটি সূত্রের মতে, সরাসরি বিজেপি শিবিরে নাম না লিখিয়ে একটি আঞ্চলিক দল তৈরি করতে পারেন পাইলট। বিজেপি শিবির আপাতত নজর রাখার নীতিতে এগোতে চাইছে। পাইলট সরকার ফেলতে পারছেন, সেটা নিশ্চিত হলে তবেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রশ্ন। তাছাড়া বিজেপি–‌র ভেতরেই মুখ্যমন্ত্রী পদের বড় দাবিদার আছেন বসুন্ধরা সিন্ধিয়া। 
কয়েকমাস আগেই মধ্যপ্রদেশের কমলনাথ সরকার ফেলে দিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন যুব নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। কমলনাথের সঙ্গে সঙ্ঘাতে অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে দল ছেড়ে বিজেপি–‌তে যোগ দেন জ্যোতিরাদিত্য। তাঁর বক্তব্য,  প্রতিভা ও দক্ষতা গুরুত্ব পায় না কংগ্রেসে। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘‌খারাপ লাগছে প্রাক্তন সহকর্মী শচীন পাইলটকেও কীভাবে সাইডলাইনে ঠেলে দিয়ে কষ্ট দিচ্ছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী। কংগ্রেসে প্রতিভা ও দক্ষতা কত কম জায়গা পায়, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।’‌ মধ্যপ্রদেশের মতো পরিস্থিতি এবার রাজস্থানেও তৈরি হয়েছে। তবে শচীন পাইলট হাইকমান্ডের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন তিনি। ডাকা হতে পারে অশোক গেহলটকেও। রবিবার দিনভর চলে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। দলের বিধায়ক, মন্ত্রীদের নিয়ে রবিবার রাতেই জয়পুরে বৈঠকে বসার কথা ছিল গেহলটের। সেটা সোমবার সকালে হবে। 
২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে রাজস্থান কংগ্রেসের মুখ হিসাবে শচীন পাইলটকে তুলে ধরা হলেও মুখ্যমন্ত্রী করা হয় বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলটকে। শচীনকে উপ‌মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করে তাঁর হাতে পাঁচটি দপ্তর তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদেও রাখা হয় তাঁকে। তারপরে, বেশ কয়েকবার দুই নেতার মধ্যে খটাখটির খবর সামনে এসেছে। গত মাসে রাজ্যসভার নির্বাচনের আগে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগ ওঠে। দলের তিন বিধায়ককে ২৫ কোটি টাকার টোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও তাঁরা টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিন বিধায়ক শচীন ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বিধানসভার মুখ্য সচেতক মহেশ যোশি সরকার ভাঙার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন পুলিশে। তদন্ত শুরু হয়। স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) নোটিস পাঠায় উপ‌মুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটকে, তাঁর বক্তব্য নথিভুক্ত করার জন। সেটাই নতুন করে বিরোধের কারণ হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী গেহলটকেও অবশ্য নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু সেটা লোক–‌দেখানো, এরকমই মনে করা হয়। পুলিশ দপ্তর গেহলটের হাতেই।
 ২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের হাতে আছে এখন ১০৭টি আসন। এছাড়াও নির্দল ১২ বিধায়ক, সিপিএম ২, আরএলডি ২ এবং বিটিবি–‌র এক বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। বিজেপি ৭২টি। আরএলপির ৩ এবং নির্দল ১টি আসন পায়। রবিবার বিকেলে রাজস্থান কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অবনীশ পান্ডে দাবি করেছেন, ‘‌প্রত্যেক কংগ্রেস বিধায়কের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। যাঁরা দিল্লিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকে জয়পুরে ফিরে এসেছেন। কংগ্রেস সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু, তা কোনওভাবেই সফল হবে না। সরকার সম্পূর্ণ স্থিতিশীল এবং পূর্ণ মেয়াদেরই হবে।’‌ রাজস্থানের পরিবহণ মন্ত্রী প্রতাপ সিং খাচরিয়াওয়াসের দাবি, ‘বিজেপি–‌র উদ্দেশ্য সফল হবে না। মধ্যপ্রদেশে ওরা যা করেছে, তা রাজস্থানে করতে পারবে না।’ পরিস্থিতি সামলাতে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব দলের নেতা অজয় মাকেন এবং রণদীপ সুরজেওয়ালাকে জয়পুরে পাঠিয়েছে, ওই দুই নেতার সঙ্গে রাজস্থান কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অবনীশ পান্ডেও বিধায়কদলের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top