আবু হায়াত বিশ্বাস
দিল্লি, ২৮ নভেম্বর

পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার কৃষকের হরিয়ানা হয়ে দিল্লি যাওয়ার চেষ্টা নিয়ে সরাসরি সঙ্ঘাত বা‌ধল দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর বলেছেন, এই কৃষক আন্দোলনে তাঁর রাজ্যের কোনও কৃষক নেই, সবাই পাঞ্জাবের। আর রাস্তায় ভাঙচুর চালানো এই কৃষকদের পেছনে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের মদত রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। ক্ষিপ্ত অমরিন্দর জবাবে বলেছেন, খট্টর ফোন করলেও এরপর তিনি তাঁর ফোন আর ধরবেন না। কৃষকদের ওপর হরিয়ানা সরকারের আক্রমণের নিন্দা করে তিনি বলেন, পাঞ্জাবের কৃষকেরা দিল্লি যেতে চাইলে তিনি তাঁদের আটকাতে পারেন না।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এদিন বলেছেন, ‘‌‌কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার। তাঁদের সমস্ত সমস্যা, দাবি-‌দাওয়া বিচার বিবেচনা করা হবে। কৃষিমন্ত্রী ৩ ডিসেম্বর কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছেন।’‌ তিনি আরও জানিয়েছেন, তার আগে আলোচনায় বসতে হলে কৃষক সংগঠনগুলিকেও এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়কে অবস্থান বিক্ষোভ না–করে দিল্লি পুলিশের দেওয়া নির্দিষ্ট স্থানে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে পুলিশ অনুমতি দেওয়ার পর আজ সকাল থেকেই দিল্লির বুরারির নিরঙ্কারি সমাগম মাঠে ভিড়। কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকদের অবস্থানে মুহুর্মুহু স্লোগান উঠছে, ‘‌নরেন্দ্র মোদি কিসান বিরোধী’‌, ‘‌ধরতি মাতা কী জয়’‌। কৃষকদের কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও হাতে সংগঠনের লাল, নীল, সবুজ পতাকা। তাঁদের দাবি, সংসদে পাশ হওয়া কৃষক–বিরোধী ৩টি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। আর যতক্ষণ না তাঁদের কথা সরকার মেনে নেয়, ততক্ষণ তাঁদের বিক্ষোভ–অবস্থান চলবে।
শনিবার ভোরেই উত্তরপ্রদেশে থেকে দলে দলে কৃষক দিল্লির বুরারির নিরঙ্কারি সমাগম মাঠে ভিড় জমাতে শুরু করেন। দুপুর গড়াতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা থেকেও বড় সংখ্যক কৃষক চলে আসেন। রাজস্থানের কৃষকরাও দিল্লি সীমান্তে জমায়েত শুরু করেন। একের পর এক কৃষকদের ট্রাক্টর ঢোকে বুরারির মাঠে। বিশালাকার মাঠে খাটানো হয়েছে তাঁবু। কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি–সহ একাধিক সংগঠনের তরফে কৃষকদের খাবার, জল পরিবেশন করা হচ্ছে। খোলা হয়েছে লঙ্গরখানা। দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় মাঠের একপাশে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র। দিল্লি সরকারের তরফে মাস্ক পরার জন্য কৃষকদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। 
এদিন এনসিপি, সিপিএম, সিপিআই, সিপিআই(‌‌এমএল), ডিএমকে, আরজেডি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতৃত্ব এক যৌথ বিবৃতিতে মোদি সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে কৃষকদের কথা শোনার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। 
এদিকে, দিল্লিতে কৃষকদের প্রবেশে অনুমতি দিলেও বেশ কয়েকটি কৃষক সংগঠন তিকরি সীমানা, সিঙ্ঘু–হরিয়ানা সীমানায় শনিবার বিক্ষোভ দেখিয়েছে। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক বয়স্ক কৃষককে লক্ষ্য করে নিরাপত্তাকর্মীর লাঠি উঁচিয়ে থাকার ছবি টুইটারে শেয়ার করে লেখেন, ‘‌অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছবি। আমাদের স্লোগান তো ছিল জয় জওয়ান, জয় কিসান। কিন্তু আজ প্রধানমন্ত্রীর অহং কৃষকদের বিরুদ্ধে জওয়ানদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যাপার।’‌ 
গতকাল হরিয়ানার আম্বালায় বিক্ষোভকারী কৃষকদের মধ্যে থেকে নভদীপ সিং নামে এক যুবক জলকামানের ওপর উঠে তা বন্ধ করে দেন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। নভদীপের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আর, পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বেড়েছে আন্দোলনকারী এবং নেট নাগরিকদের মধ্যে। গতকালের ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই নেট নাগরিকদের কাছে ‘‌হিরো’র সম্মান পাচ্ছেন নভদীপ।‌ তিনি জানিয়েছেন, কৃষকদের ওপর যখন জলকামান চালানো হয়, তা থেকে কৃষকদের বাঁচাতেই তিনি জলকামানের ওপরে উঠে তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের কৃষকনেতা জয় সিংয়ের পুত্র নভদীপ।‌‌‌‌

৫ দাবি

➲ তিন কৃষি সংস্কার আইন প্রত্যাহার 
➲ ন্যূনতম সহায়কমূল্য ও শস্য সংগ্রহের বর্তমান পদ্ধতি 
চালু রাখা
➲ বিদ্যুৎ বিল সংশোধন রদ 
➲ নাড়া পোড়ানোর শাস্তি 
থেকে রেহাই
➲ পাঞ্জাবে ‌নাড়া পোড়ানোয় ধৃত কৃষকদের মুক্তি‌

জনপ্রিয়

Back To Top