আজকালের প্রতিবেদন‌ 
দিল্লি, ৮ আগস্ট

রাজস্থানে নতুন খেলা! বিধায়ক হারানোর আতঙ্কে এবার বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের আশঙ্কা, অশোক গেহলট সরকার বাঁচাতে বিজেপি বিধায়কদের দলে টানার টোপ দিতে পারে কংগ্রেস। সেই আশঙ্কা‌য় দলের দু’‌ডজনের বেশি বিধায়ককে‌ গুজরাটে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করল গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, ১৮ জন বিধায়ক ইতিমধ্যে পোরবন্দরে আস্তানা গেড়েছেন। তাঁদের রিসর্টে রাখার বন্দোবস্ত করছে দল। বিজেপি নেতারা বলছেন, পুলিশ ও ‌প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বিধায়কদের হয়রানি করছে অশোক গেহলট সরকার। 
এমনিতেই রাজস্থান সরকার টালমাটাল। শচীন পাইলট শিবির‌ আর অশোক গেহলট শিবিরের লড়াই আদালতে গড়িয়েছে। এরমধ্যেই বিএসপি–র যে ৬ বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বিধায়কপদ বাতিলের দাবিতে রাজস্থান হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। ১১ আগস্ট ওই মামলার শুনানি। এই ৬ জনের বিধায়কপদ বাতিল হলে সরকার টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ অশোক গেহলট বিজেপি বিধায়কদের টোপ দিতে পারেন, এমন আশঙ্কা করেই দলের বিধায়কদের গুজরাটে নিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। ১৪ আগস্ট থেকে রাজস্থান বিধানসভার অধিবেশন শুরুর কথা। তখন উভয় পক্ষের শক্তিপরীক্ষা হবে।
এদিন দলের ৬ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহোটি জয়পুর বিমানবন্দরের বাইরে বলেছেন, পুলিশ, প্রশাসনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। যে বিধায়কদের পুলিশ–‌‌প্রশাসন হয়রানি করছে, তাঁরা স্বেচ্ছায় তীর্থে যাচ্ছেন। রাজস্থান বিজেপি–‌র সভাপতি সতীশ পুনিয়া বলেছেন, ‘‌অশোক গেহলট সরকার বিধায়কদের ওপর চাপ তৈরি করছেন। এঁদের দলে টানতে সমস্ত কৌশল অবলম্বন করছেন গেহলট।’‌ বিজেপি বিধায়করা সোমনাথ মন্দির দর্শন করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, জয়পুর বিমানবন্দর থেকে বিজেপি বিধায়ক নির্মল কুমাওয়াত, গোপীচাঁদ মিনা, জাব্বার সিং শাঙ্খলা, ধরমবীর মোচি, গোপাল লাল শর্মা এবং গুরুদীপ সিং শাহপিনি পোরবন্দর পৌঁছান এদিন সকালে। পরে আরও বিধায়ক গুজরাটের উদ্দেশে রওনা হতে শুরু করেন।
কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক রাজ্যে কংগ্রেস–সহ বিরোধী দলের বিধায়কদের কিনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি–র বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছরে বেড়েছে রিসর্ট রাজনীতি। কর্ণাটক, গুজরাট কিংবা মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস বিধায়কদের দলে টেনেছে বিজেপি শিবির। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, মোটা টাকার বিনিময়ে দলের বিধায়কদের দলে টেনেছিল গেরুয়া শিবির। এখন, ঘোড়া কেনাবেচার আশঙ্কায় সেই বিজেপি–ই দলীয় বিধায়কদের গুজরাটে পাঠাচ্ছে!‌‌‌ অন্যদিকে বিজেপি বা শচীন পাইলট তাঁদের কিছু বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিতে পারেন বলে গেহলট আশঙ্কা করছেন। পাইলট শিবিরের বিধায়কেরা বলছেন, আরও ১০–১২ জন তাঁদের সঙ্গে যোগ দেবেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top