আজকালের প্রতিবেদন‌
দিল্লি, ১২ জুলাই

দৈনিক করোনা সংক্রমণে আরও একটি রেকর্ড গড়া দিন।‌ একদিনে আক্রান্ত ২৮,৬৩৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫৫১ জনের। দেশে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা সাড়ে ৮ লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। সংক্রমণ বাড়ছে মহারাষ্ট্র ছাড়াও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে। প্রতিদিনই রেকর্ড সংখ্যক কেস ধরা পড়ছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশে। রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় শুধু মহারাষ্ট্রেই ৮,১৩৯ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে দৈনিক আক্রান্তের এই সংখ্যাটিই সর্বোচ্চ। তামিলনাড়ুতে ৩,৯৬৫, কর্ণাটকে ২,৭৯৮, অন্ধ্রপ্রদেশে ১,৮১৩ এবং তেলেঙ্গানায় ১,১৭৮ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বক্তব্য, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বিশ্বের অন্য দেশগুলির তুলনায় ভারতে সার্বিক করোনা পরিস্থিতি ভাল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮,৪৯,৫৫৩ জন। যার মধ্যে সুস্থ ৫,৩৪,৬২১ জন। সুস্থতার হার ৬২.‌৯২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৯,২৩৫ জন। এখনও পর্যন্ত করোনাতে সারা দেশে মৃত্যু হয়েছে ২২,৬৭৪ জনের। আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, বিশ্বের অন্য দেশগুলির তুলনায় ভারতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কম। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় বড় দেশ। তা সত্ত্বেও করোনা মোকাবিলায় অত্যন্ত সফল ভারত। এদিনই গুরুগ্রামে সিএপিএফের ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, করোনা সংক্রমণ রুখতে ভারত কীভাবে সাফল্যের সঙ্গে লড়াই করছে, তা গোটা দুনিয়া দেখছে। এই করোনাযুদ্ধে দেশের সুরক্ষা বাহিনীর বড় ভূমিকা রয়েছে। কেউই তা অস্বীকার করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শুধু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নয়, সঙ্কটের সময়ে মানুষের পাশেও দাঁড়াতে পারেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, মহারাষ্ট্রে ২,৪৬,৬০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তার মধ্যে ১,৩৬,৯৮৫ জনই সুস্থ। ১০ হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। ওই রাজ্যে করোনার সক্রিয় কেসের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ। তামিলনাড়ুতেও হু–হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত ১,৮৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪৬ হাজারের বেশি সক্রিয় কেস রয়েছে তামিলনাড়ুতে। কর্ণাটকেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একদিনে আক্রান্ত ২,৭৯৮ জন। সব মিলিয়ে ৩৬,২১৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ১৪,৭১৬ জন সুস্থ। এদিনই কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বি সিরামুলু বলেছেন, ‘‌আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনে কর্ণাটকে করোনা সংক্রমণ দ্বিগুণ হতে পারে। কাজেই আগামী দু’‌মাস করোনা সংক্রমণ রোধ করা সরকারের কাছে মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।’‌ 
অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লিতে ক্রমশ সংক্রমণ কমছে। বাড়ছে সুস্থতার হার। ১,৭৮১টি নতুন কেস ধরা পড়েছে শনিবার। দিল্লির আপ সরকারের দাবি, ক্রমশ কমছে সক্রিয় কেসের সংখ্যা। ২৭ জুন রাজধানীতে ২৮,৩২৯টি সক্রিয় কেস ছিল, ১১ জুলাইয়ে সক্রিয় করোনা কেসের সংখ্যা কমে হয় ১৯,৮৯৫। গত ৩১ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম। সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজধানীতে ৭৯.‌০৫ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় ৪০ হাজার মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়েছে দিল্লিতে। দিল্লি সরকার সূত্রের খবর, করোনা চিকিৎসার প্রয়োজনে শিগগিরই দ্বিতীয় প্লাজমা ব্যাঙ্ক খোলা হবে। আইএলবিএসের পর এবার গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে প্লাজমা ব্যাঙ্ক খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার। এদিনই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ১০ হাজার বেডের সর্দার প্যাটেল কোভিড কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেন। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top