সংবাদ সংস্থা
মুম্বই, ১১ জুলাই

মুম্বইয়ের ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি অঞ্চল ধারাবিতে যেভাবে করোনার সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে তাকে স্বীকৃতি দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। আগ্রাসী ভূমিকা পালন করলে করোনার সংক্রমণ যত ভয়াবহই হোক, সেটা যে নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভব নয়, সেটাই মনে করিয়ে দিল হু। 
শুক্রবার জেনেভায় ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে কোভিড নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েকটি দেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন হু–‌প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেইয়েসাস। তিনি বলেন, ‘‌গত ছয় মাসে বিশ্বব্যাপী কোভিড রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এমন কিছু উদাহরণও পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, করোনার প্রাদুর্ভাব যতটাই ভয়াবহ হোক না কেন, আগ্রাসী ভূমিকা পালন করলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এমনই কিছু উদাহরণ হল, ইতালি, স্পেন, সাউথ কোরিয়া, এমনকি মুম্বইয়ের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ধারাবি। টেস্টিং, ট্রেসিং, আইসোলেটিং আর ট্রিটিং–‌এর মধ্যে দিয়ে ভাইরাসকে দমন করে দেওয়া সম্ভব, সেটাই দেখিয়ে দিয়েছে ধারাবি।’‌
হু–‌এর প্রশংসা পেয়েই টুইট করেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য। তিনি বলেন, ‘‌এটা ধারাবির পক্ষে বড় একটা স্বীকৃতি। আমরা সবাই মিলে ওখানে ভাইরাসকে তাড়া করেছি। এ রকম ভাবেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’‌ বৃহন্মুম্বই পুরসভারও বক্তব্য, ‘‌মিশন ধারাবি’‌–‌র সাফল্যের পেছনে আছে চার টি— ট্রেসিং, ট্রেকিং, টেস্টিং এবং চিকিৎসা (‌ট্রিটিং)‌। পুরসভার জি নর্থ ওয়ার্ডের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার কিরণ দিঘাওকর বলেন, রোগী আসবে, তারপর তার সংস্পর্শে আসা লোকদের আলাদা করার চালু নীতি বদলে আমরা পরীক্ষার মাধ্যমে রোগী খুঁজে বের করার নীতি নিয়েছি। তাতে সময় বেঁচেছে, আগে থেকে চিকিৎসা শুরু করা গেছে, এবং ভাল ফল পাওয়া গেছে। 
গত মে–‌তে দিনে গড়ে ৫০–‌এরও বেশি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল ধারাবিতে। একদিন তো প্রায় একশো জন সংক্রমিত ধরা পড়ে। কিন্তু তার পর থেকেই ধীরে ধীরে সেই সংখ্যাটা কমতে শুরু করে। গোটা জুনে ধারাবিতে দৈনিক গড় সংক্রমণ ছিল ১৮ জন। জুলাইয়ে সেটা আরও কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর ফলে ধারাবিতে মোট রোগীর সংখ্যা এখন বেড়ে হয়েছে ২,৩৫৯। তবে এইমুহূর্তে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ১৬৬ জন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top