আবু হায়াত বিশ্বাস
দিল্লি, ১৪ আগস্ট

আদালত অবমাননার দায়ে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে দোষী সাব্যস্ত করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শেষ চার প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়ে একটি টুইট করেছিলেন তিনি। এছাড়াও বর্তমান প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের হার্লে ডেভিডসন বাইকে চড়ার ছবি নিয়েও টুইট করেছিলেন প্রবীণ আইনজীবী। ২টি বিতর্কিত টুইটের জেরে আদালত অবমাননার মামলা হয় ভূষণের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে তিন বিচারপতির বেঞ্চ দোষী সাব্যস্ত করেছে প্রশান্ত ভূষণকে। আগামী ২০ আগস্ট তাঁর শাস্তি ঘোষণা করবে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বে বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারির বেঞ্চ। 
বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার ফৌজদারি অপরাধের মামলায় নোটিস পাঠিয়েছিল প্রশান্ত ভূষণকে। মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‌৩০ বছর ধরে আইনি পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তির থেকে জনসাধারণের সামনে সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রধান বিচারপতির সম্মানহানি কোনও ভাবেই আশা করা যায় না। বিচার বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের যে বিশ্বাস রয়েছে, তাতে আঘাত লেগেছে। যে টুইট করা হয়েছে, তা আদালতের স্বাস্থ্যকর সমালোচনা বলে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’‌‌ 
২৭ জুন একটি টুইটে ভূষণ অভিযোগ করেছিলেন, ৬ বছর ধরে ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার কাজে শীর্ষ আদালতেরও ভূমিকা ছিল। এছাড়াও কিছুদিন আগে ভূষণ দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদেকে নিয়ে টুইট করেন। বোবদে হার্লে ডেভিডসন বাইকে বসেছিলেন। কিন্তু মাথায় কেন হেলমেট নেই, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। টুইটে লিখেছিলেন, ‘‌এমন একটা সঙ্কটের সময় প্রধান বিচারপতি মাস্ক ও হেলমেট না পরে বাইকে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ এই লকডাউনে দেশের নাগরিকরা বিচার পাচ্ছেন না।’‌ 
আদালতে প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্য ছিল, শীর্ষ বিচারপতিদের সমালোচনা আদালতের মর্যাদাহানি করে না অথবা তার কর্তৃত্ব খর্ব করে না। আদালতের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করা তাঁর বাক স্বাধীনতার অধিকারের মধ্যে পড়ে, আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে না।

জনপ্রিয়

Back To Top