সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর

নতুন সভাপতি নির্বাচনের আগে ওয়ার্কিং কমিটি–‌সহ সাংগঠনিক নেতৃত্বে শুক্রবার রাতে বড় রদবদল এনেছে কংগ্রেস। স্বাভাবিকভাবেই এতে রাহুল গান্ধীর হাতের ছাপ দেখতে পাচ্ছেন সবাই। সেটা যে শুধু রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বা জিতেন্দ্র সিংয়ের মতো তুলনায় নতুন প্রজন্মের নেতাদের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রমোশন দেওয়ার মধ্যেই ধরা পড়ছে, তা নয়। দিগ্বিজয় সিং, তারিক আনোয়ার বা সলমন খুরশিদের মতো প্রবীণ নেতাদের পুনর্বাসনেও রয়েছে সেই ছাপ। চিঠি লিখে শোরগোল ফেলা সেই ২৩ নেতা, ‘‌বিক্ষুব্ধ’‌ বলেই যাঁদের চিহ্নিত করছিল অনেকে, তাঁদের ধাক্কাকে প্রতিহত করবে এই নেতাদের গুরুত্বপ্রাপ্তি, মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। একই সঙ্গে চোখে পড়ছে সেই ২৩ নেতার ‘‌গোষ্ঠী’‌কে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার ছক। কাউকে পুনর্গঠিত নেতৃত্বের অংশ করে তোলা হয়েছে, কাউকে গুরুত্ব কমিয়েও সময় দেওয়ার মতো করে ওয়ার্কিং কমিটিতে রেখে দেওয়া হয়েছে, বাকি কয়েকজন পড়ে থাকছেন বাইরে। সেই গোষ্ঠী আদতে আর আস্ত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
২৩ পত্রলেখকের মধ্যে ছিলেন জিতিন প্রসাদ, মুকুল ওয়াসনিক। তাঁদের স্পষ্টতই সরিয়ে এনেছেন রাহুল। ওয়ার্কিং কমিটিতে এঁদের রাখার পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে বাড়তি দায়িত্ব। পরের বছর ভোট পশ্চিমবঙ্গে। জিতিন প্রসাদকে দেওয়া হয়েছে এই রাজ্যের কংগ্রেসের দায়িত্ব। সাংগঠনিক কাজে সহায়তার জন্য ৬ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি করেছেন অন্তর্বর্তী সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। ওয়াসনিককে তার সদস্য করা হয়েছে (‌অন্য সদস্যরা হলেন এ কে অ্যান্টনি, আহমেদ প্যাটেল, কে সি বেণুগোপাল, অম্বিকা সোনি, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা)‌। আরেক পত্রলেখক আনন্দ শর্মাকে ওয়ার্কিং কমিটিতে বহাল রাখা হয়েছে। আর এই পত্রলেখকদের মধ্য সবার আগে যাঁর নাম করা হচ্ছিল, সেই গুলাম নবি আজাদকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শাস্তি!‌ কিন্তু ওয়ার্কিং কমিটি থেকে ছেঁটে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, চাইলে আজাদ নতুন করে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন। চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে কপিল সিবাল, মণীশ তেওয়ারি, বীরাপ্পা মইলি বা শশী থারুরদের কোনও দায়িত্বই দেওয়া হয়নি। 
রদবদলে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছেন দিগ্বিজয় সিং। গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ২০১৮–‌তে তাঁকে ওয়ার্কিং কমিটি থেকে ছেঁটে ফেলেছিলেন রাহুল গান্ধী। হালে মধ্যপ্রদেশে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার দলত্যাগের পর তাঁর গুরুত্ব বেড়েছে। নেতৃত্বের প্রশ্নে রাহুল–‌প্রিয়াঙ্কার প্রতি তাঁর সমর্থনের কথাও জোরের সঙ্গেই জানিয়েছেন দিগ্বিজয়। ওয়ার্কিং কমিটিতে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে। কংগ্রেসের সদরে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে আরেক পুরনো নেতা তারিক আনোয়ারের। ১৯৯৯ সালে শারদ পাওয়ার, পূর্ণ সাংমার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিদ্রোহ করেছিলেন একদা–‌ক্ষমতাশালী নেতা আনোয়ার। তারপর ১৯ বছর ছিলেন এনসিপি–‌তেই। ২০১৮–‌তে কংগ্রেসে ফেরেন। গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করে নেন। এবার তাঁকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে এবং দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভোটমুখী রাজ্য কেরলের। অন্যদিকে, গত লোকসভা ভোটে হেরে যাওয়ার পর দলে তেমন কোনও দায়িত্ব পাচ্ছিলেন না সলমন খুরশিদ। ২৩ নেতার চিঠি নিয়ে বিতর্কে স্পষ্ট করেই তিনি জানিয়েছিলেন, এতে তাঁর সায় নেই। গান্ধী পরিবারের কাছের মানুষ বলেই খুরশিদ পরিচিত। ওয়ার্কিং কমিটিতে স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়েছে তাঁকে। 
নবীন প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে দলের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার পদোন্নতি রীতিমতো নজরকাড়া। শুধু সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া নয়, সোনিয়ার বিশেষ সহায়ক কমিটিতে আছেন রাহুলের আস্থাভাজন সুরজেওয়ালা। জিতেন্দ্র সিংকে সাধারণ সম্পাদক করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অসমের। আগামী বছর ভোট অসমে। প্রিয়াঙ্কার আস্থাভাজন বলে পরিচিত রাজীব শুক্লা পেয়েছেন হিমাচল প্রদেশের ভার। চিঠিতে সই করা ভূপিন্দর সিং হুডার রাজ্য হরিয়ানার ভার দেওয়া হয়েছে বিবেক বনশলকে। উল্লেখ্য, নতুন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য সংখ্যা ২২, স্থায়ী আমন্ত্রিত ২৬ জন, বিশেষ আমন্ত্রিত ১০ জন। ওয়ার্কিং কমিটির পাশাপাশি নতুন করে গড়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি। তার মাথায় রাখা হয়েছে রাহুলের মধুসূদন মিস্ত্রিকে। গুজরাটের এই নেতা রাহুলের ঘনিষ্ঠ। দলের নেতৃত্বে সুপরিকল্পিতভাবেই রদবদল ঘটিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। কিন্তু তাতে ভবিষ্যতের ভাঙন ঠেকানো যাবে কি না, কংগ্রেসকে চাঙ্গা করা যাবে কি না, সে–বিষয়ে নিশ্চিত নয় কেউ।‌

জনপ্রিয়

Back To Top