সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ২৮ নভেম্বর

পরীক্ষাপর্বে টিকা নিয়ে শরীরে খুবই খারাপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সেজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন তামিলনাড়ুর বছর চল্লিশের এক স্বেচ্ছাসেবক। তাঁর হয়ে সিরামের দপ্তরে ক্ষতিপূরণের নোটিস পাঠিয়েছে একটি আইনি পরামর্শদাতা সংস্থা। নোটিসে বলা হয়েছে, টিকার কারণে ঘটে যাওয়া তীব্র অসুস্থতার কারণে সিরামকে দিতে হবে ৫ কোটি টাকা। বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার জন্যও সিরাম কর্তৃপক্ষের সমালোচনাও করা হয়েছে নোটিসে। 
এদেশে অক্সফোর্ড–‌অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পরীক্ষা চালাচ্ছে সিরাম ইনস্টিটিউট। অভিযোগকারীর আইনজীবী আর রাজারাম জানিয়েছেন, সিরাম কর্তৃপক্ষকে তাঁরা আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন ২১ নভেম্বর। উত্তর না এলে আগামী সপ্তাহে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এ ঘটনায় সিরাম কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। 
অভিযোগকারী তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। চেন্নাইয়ের শ্রীরামচন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে তিনি টিকার তৃতীয় দফার পরীক্ষাপর্বে অংশ নেন। সে–কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের ভাইস চ্যান্সেলর, অ্যাস্ট্রাজেনেকার চিফ এগজিকিউটিভ এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তরফে টিকার পরীক্ষাপর্বের মুখ্য অনুসন্ধানকারীকেও আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন রাজারাম। শ্রীরামচন্দ্র ইনস্টিটিউটের মুখ্য অনুসন্ধানকারী এস আর রামকৃষ্ণন জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খুব ভাল করে তদন্ত করা হয়েছে। আমরা মনে করি না টিকার কারণে ওই ব্যক্তির দেহে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সিরামের ডেটা ও সেফটি মনিটরিং বোর্ডের কাছে অনুসন্ধানের রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে ড্রাগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কাছেও।’ তিনি জানান, এই নোটিসের জন্য টিকার পরীক্ষাপর্ব বন্ধ হয়নি। টিকার স্পনসর কিংবা ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে পরীক্ষা বন্ধ রাখার কোনও নির্দেশও আসেনি। 
ওই স্বেচ্ছাসেবকের আইনজীবী জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর তাঁকে টিকা দেওয়া হয়। ১১ তারিখ নাগাদ তাঁর প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হয়। তখন কোনও প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারছিলেন না তিনি। শুরু হয় অ্যাকিউট নিউরো এনসেফালোপ্যাথি। টিকা দেওয়ার সময় লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল, ইঞ্জেকশন দিলে ব্যথা, জ্বর, শীত শীত ভাব, ক্লান্তি, মাথাব্যথা কিংবা বড়জোড় গাঁটে ব্যথা হতে পারে। টিকা দেওয়ার পর তাঁর কোভিড হলে সেটাও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবককে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, টিকা পুরোপুরি নিরাপদ। কোনওরকম গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হবে না। অথচ প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও  এনসেফালোপ্যাথির কারণে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ২৬ অক্টোবর তিনি ছাড়া পান। রাজারাম জানিয়েছেন, এতদিন পরেও তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়নি। ঘন ঘন মেজাজ বদলে যাচ্ছে তাঁর। কোনও কথা ভাল করে বুঝতে পারছেন না। এমনকী সাধারণ দৈনন্দিন কাজও করতে পারছেন না। রাজারামের অভিযোগ, সিরাম কিংবা ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কিংবা টিকার স্পনসররা হাসপাতাল থেেক ছাড়া পাওয়ার পর ওই স্বেচ্ছাসেবকের খোঁজও নেননি।

জনপ্রিয়

Back To Top