সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ১২ জুলাই

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার ইস্যুতে রাজ্যগুলির সঙ্গে সঙ্ঘাতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র। এবিষয়ে ইউজিসি–‌র বক্তব্য, এই পরীক্ষা বাতিল করতে পারে না কোনও রাজ্য। যদি তা করা হয়, তাহলে রাজ্যগুলির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ইউজিসি–‌র। এবিষয়ে ‌রবিবার কেন্দ্রের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দেন কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব অমিত খারে। তাঁর প্রতিক্রিয়া উদ্ধৃত করেছে দ্য হিন্দু পত্রিকা। খারে বলেছেন, ‌‘‌ইউজিসি আইন মোতাবেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার ইস্যুতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। স্কুল শিক্ষা যেহেতু রাজ্য তালিকায় তাই রাজ্য সেবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা যুগ্ম তালিকার অধীন। এক্ষেত্রে ইউজিসি ও এআইসিটিই–‌র নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এটা আইনেই আছে।’‌ চূড়ান্ত সেমেস্টার ও বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬ জুলাই সংশোধিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে ইউজিসি। তাতে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সেমেস্টার ও চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক ভাবে শেষ করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‌‘‌আমি এখন ছাত্র ও শিক্ষক সমাজের কাছ থেকে শয়ে শয়ে ই–‌‌মেল পাচ্ছি, যাতে তারা ইউজিসি–‌র সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী পরীক্ষা হওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন।... ইউজিসি–‌র সংশোধিত নির্দেশিকা শুধু আমাদের রাজ্যেই নয়, সারা দেশের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ বিপন্ন করবে।’‌ 
শনিবারই দিল্লির আপ সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা রাজ্যস্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিল করছে।  পরীক্ষা বাতিল করেছে পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, ওডিশা, রাজস্থান, হরিয়ানাও। মধ্যপ্রদেশ সরকার প্রথমে পরীক্ষা বাতিল করলেও এখন তারা চাইছে পরীক্ষা নিতে। এদিন খারে বলেন, ‌‘‌পরীক্ষা না নিয়েই ডিগ্রি দিলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা ভেবে দেখা উচিত। যদি কোভিড টানা ১ বছর চলে তাহলে কি কয়েক বছর আমরা পরীক্ষা ছাড়াই ডিগ্রি দিয়ে যাব?’‌ ইউজিসি–‌র এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করেছে  দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়–‌‌সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top