সংবাদ সংস্থা 
দিল্লি, ১৪ আগস্ট

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুরোপুরি দেশীয় পদ্ধতিতে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরিই লক্ষ্য ভারতের বিজ্ঞানীদের। জানা গেছে, কোভ্যাক্সিনের প্রথম দফার ট্রায়াল বেশির ভাগ কেন্দ্রেই সফল ভাবে শেষ হয়েছে। প্রথম দফায় দিল্লির এইম্‌স–‌এ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। প্রথম প্রয়োগ করা হয় ৩০ বছরের এক ব্যক্তির শরীরে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (‌‌আইসিএমআর‌)‌–এর সঙ্গে গঁাটছড়া বেঁধে ভারত বায়োটেক এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। জানা গেছে, এবার মানবশরীরে দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালের জন্যে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই শুরু হবে দ্বিতীয় দফার ট্রায়াল। মোট ১২টি কেন্দ্রে ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিনের প্রথম দফার ট্রায়াল প্রায় একই সঙ্গে শুরু হয়েছিল। দিল্লির এইম্‌স ছাড়া বাকি সব কেন্দ্রেই ট্রায়াল শেষ হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ঠিক ছিল, দিল্লি এইম্‌স ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ১০০ জনকে নিয়োগ করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। ১২টি কেন্দ্রে প্রথম দফার ট্রায়ালের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল ৩৭৫ জনকে। প্রথম দফার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল শিগগিরই জমা পড়ে যাবে। নাগপুরের ট্রায়াল সেন্টারে ৫৫ জন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রথম দফার ভ্যাকসিন ট্রায়াল শেষ হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রধান জানিয়েছেন, প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দু’জনের সামান্য জ্বর আসে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তঁারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। কোনও ওষুধের প্রয়োজন পড়েনি। দু’দিন আগে দ্বিতীয় দফার ডোজ দেওয়া হয় ৭ জনকে। বৃহস্পতিবার কোভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৩ জনকে। ভারত বায়োটেককে প্রথম দফার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফল জমা দিয়েছে নাগপুরের এই কেন্দ্র। 

 

একই ভাবে কর্ণাটকের বেলগামের জীবনরেখা হাসপাতালেও টিকা পরীক্ষার  প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। তবে সেখানে মাত্র ৪ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়। প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবকের শারীরিক অবস্থা ২৮ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর রিপোর্টে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কোভ্যাক্সিন যে পুরোপুরি নিরাপদ, জানা গেছে এই টিকার মানবদেহে প্রথম পর্বের পরীক্ষা–‌নিরীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে। শুক্রবার এই মর্মে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে দি ইকনমিক টাইম্‌স ও ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকা।
অন্য দিকে, ভারতে কোভিশিল্ড–এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ট্রায়ালের অনুমতি ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে পেয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা–‌র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ওই ভ্যাকসিন তৈরির কাজে হাত দিয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট। আগামী দু’‌সপ্তাহের মধ্যেই তারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ট্রায়াল শুরু করবে বলে সংস্থার পরিকল্পনা। জাইডাস ক্যাডিলার তরফেও জানানো হয়েছে, তাদের ভ্যাকসিন জাইকোভ ডি–র প্রথম দফার ট্রায়াল শেষ হয়েছে, শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার ট্রায়াল। আমেদাবাদের এক হাজার সুস্থ মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে।‌
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘‌হু’‌ এদিন জানিয়ে দিয়েছে, তাদের তালিকায় বিভিন্ন দেশের যে ৯টি টিকাকে এগিেয় থাকার পর্যায়ে রাখা হয়েছে, তার মধ্যে নেই রাশিয়ার স্পুটনিক ভি। ‘‌হু’‌–‌র ডিরেক্টর জেনারেলের পরামর্শদাতা ব্রুস আইলওয়ার্ড বলেন, ‘এই মুহূর্তে রাশিয়ার টিকার গুণাগুণ বিচার করার মতো যথেষ্ট তথ্য আমাদের হাতে নেই।’ তবে ‘‌হু’–‌‌র তালিকায় রয়েছে ভারত বায়োটেক ও জাইডাস ক্যাডিলার সম্ভাব্য টিকা। শুক্রবারই স্পুটনিক ভি নিয়ে আরও তথ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা মেনে নিয়েছেন রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাসকো। তিনি জানান, সম্ভবত আগামী সোমবারের মধ্যেই টিকার বিষয়ে প্রি–‌ক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা–‌সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করা হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top