সংবাদ সংস্থা
লকডাউনে বাড়িতে আটকে পড়েছে ছোটরা। যেতে পারছে না স্কুলে, খেলার মাঠে। কীভাবে দিন কাটছে তাদের? করোনা নিয়েই বা তারা কী ভাবছে? নিজেদের বাড়ির বাচ্চাদের কাছেই জানতে চেয়েছিলেন সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের সাংবাদিকেরা। কী জানাল ২ থেকে ১৩ বছরের ছেলেমেয়েরা?
নীহার ওয়াঘমারে। বয়স ২ বছর ৪ মাস। বাড়ি ঔরঙ্গাবাদে। রোজ বাবার রয়্যাল এনফিল্ড মোটরবাইকে চেপে রাস্তায় ঘুরে আসা ছিল তার দৈনন্দিনের রুটিন। লকডাউনের পর থেকে তা বন্ধ। এখন প্রতিদিন সকালে বাইকে স্টার্ট দেন বাবা। তার ওপর বসে দুধ খায় নীহার। মা ওকে বুঝিয়েছেন, রাস্তায় করোনা নামে একটা দৈত্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখলেই ধরবে। 
লকডাউন শুরু হতেই তিন বছরের ইরার বায়না, সে প্লে–স্কুলে যাবে। মা অরুন্ধতী পট্টভিরামন রোজ ওর খেলনাগুলো সাজিয়ে দেন বাড়িতেই। তাই নিয়ে ভুলে থাকে মেয়ে। হাত না ধুলে, রাস্তায় বেরোলেই ধরবে করোনা দৈত্য। এটা ইরার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন মা। এখন দাদু–ঠাকুমাকে দেখলেই ও বলে, ‘হাত ধোও, না হলে করোনা ধরবে।’ মুম্বইয়ের ৫ বছরের অনন্যা জয়সওয়ালকে প্রতি শনিবার ঘোড়ার গাড়ি চড়তেই হবে। তার পরে খেতে হবে চিজ ধোসা ও তরমুজের সরবত। এখন সব বন্ধ। ওর মা কোমল পঞ্চমাটিয়া বলেন, ‘পুতুলের পিঠে চেপেই ও ঘোড়ার গাড়ি চড়ার সাধ মেটায়। নানা রকম খাবার দিয়ে ওকে ভুলিয়ে রাখি।’ সাহানা দত্ত এমাসেই সাতে পড়বে। করোনাকে ওর ভাল লাগে। কারণ মা–বাবা বাড়িতেই থাকেন। মা অনন্যা বলেন, ‘যাতে আইসক্রিম খেতে না চায়, তাই ওকে বুঝিয়েছিলাম যে, কারও কাশি হলেই সে মারা যাবে। এখন বাড়িতে কেউ কাশলে বা জোরে হাই তুললে ও চুপি চুপি এসে জানতে চায়, এবার কি ও মারা যাবে?’ টিভিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের দেখে সাহানা বলেছিল, ‘ওদের কি আমাদের বাড়িতে থাকতে দিতে পারি না?’ মেয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি মা। সুদীপ্ত চৌধুরীর ৫ বছরের মেয়ে অদ্রিজা বলে কোরোনো। বাবা–মা আর দাদু–ঠাকুমাকে সব সময় বলে হাত ধুতে আর মাস্ক পরতে। এমনকী, নিজের প্রিয় পুতুলের মুখেও পরিয়ে দিয়েছে একটা ঢাকনা। ৭ বছরের আরিয়া জায়দি থাকে গাজিয়াবাদে। ওর খুব দুঃখ যে, স্কুল এতদিন বন্ধ! স্কুলে যেতে কেন ভাল লাগে? আরিয়ার চটজলদি উত্তর, ‘ছেলেমেয়েরা দুষ্টুমি করে। তাতে রেগে যান মিস–রা। এটা দারুণ মজার।’ মুম্বইয়ের আলিয়া শ্রীবাস্তবের বয়স ১৩। লকডাউনে ওর প্রিয় বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি হচ্ছে না বলে খুব মনমরা। কেন এই রোগের কোনও ওষুধ নেই? কবে আবার স্কুলে যাব? প্রশ্ন করে করে ও অস্থির করে তুলছে বাবা–মাকে। 
১০ বছরের কারা নোফিল চিঠিতে লিখেছে, ‘এই ভাইরাস জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। তবে অস্থির হলে চলবে না। বাড়ির লোকেদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটানোর সুযোগ এসেছে। অনেক বিজ্ঞানী করোনা সারানোর চেষ্টা করছেন। জানি ওঁরা পারবেন। আমি হতাশ হচ্ছি না, তোমরাও হয়ো না।’ পাটনার ৮ বছরের আনন্দ রাজ আবার আইপিএল দেখতে না পেয়ে মনমরা। শিলংয়ের ৫ বছরের মায়ান নোঙ্গব্রি জমানো পয়সার ভঁাড়টা ভেঙেছে। দেবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। দিল্লির ১৩ বছরের ডালিয়া ত্যাগী ১০ বছরের ভাই কায়ানকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের কাজে সাহায্য করছে মা রিচা ত্যাগীকে। এখন ওরা বুঝতে পারছে, কাজের মাসি আর কাকুরা সংসারে কতটা সাহায্য করেন!

জনপ্রিয়

Back To Top