আবু হায়াত বিশ্বাস
নিজামুদ্দিন কাণ্ডে তবলিগি জামাত প্রধান মৌলানা সাদকে আবার নোটিস দেওয়া হল। দিল্লির অপরাধ দমন শাখা সাদের প্রথম নোটিসের জবাবে সন্তুষ্ট নয়। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় নোটিসে তবলিগি জামাতের অনুষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্য, আয়ের উৎস এবং আয়কর রিটার্নের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে পুলিশ। তবে, ‌এই নোটিসে মৌলানা সাদকে সশরীরে হাজির হওয়ার কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। 
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তবলিগি জামাতের প্রধান মৌলানা সাদ–সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। পুলিশ তাঁদের খোঁজে হন্যে হয়ে সন্ধান চালাচ্ছে। চলছে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি। কিন্তু দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও খোঁজ মেলেনি অভিযুক্তদের। এদিনই উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে তবলিগি জামাতের সমাবেশে অংশ নেওয়া ২২ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ১৮৯৭ সালের মহামারী আইন ও একাধিক জামিন–অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 
পাশাপাশি, এদিনই অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের কাছ থেকে ও স্থানীয়ভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে অসম থেকে ৮৩১ জন দিল্লির নিজামুদ্দিন মরকজের জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন। যাঁরা অংশগ্রহণ করছিলেন, অথচ আজ সন্ধে পর্যন্ত  রিপোর্ট করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, ৮৩১ জনের মধ্যে ৪৯১ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। মসজিদ কমিটিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে বাকি লোকেদের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হবে।
নিজামুদ্দিন–ফেরত অনেককেই শনাক্ত করে গৃহ পর্যবেক্ষণ বা আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হল, দিল্লির নিজামুদ্দিন থেকে যাঁরা ট্রেনে বিভিন্ন রাজ্যে ফিরেছেন, তাঁরা কোন কোন মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন? কোন ট্রেনেই বা এসেছেন?‌ এ সবের সন্ধান চালাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে তবলিগি জামাতের জমায়েতে অংশ নেওয়া অনেকেই গা–ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। করোনা পরীক্ষায় তাঁরা স্বেচ্ছায় আসছেন, এমন ঘটনা কার্যত বিরল। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের দলমত নির্বিশেষে মুসলিম রাজনৈতিক নেতারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, তবলিগি জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (‌ভিএইচপি)‌। এই সংগঠনের সঙ্গে জঙ্গি–যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। ভিএইচপি নেতা অলোক কুমার বলেছেন, তবলিগি জামাত করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে দেশে। চিকিৎসক, নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে জামাত সদস্যরা। ওই জমায়েত হওয়ার জন্য যে সমস্ত আধিকারিক দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছে ভিএইচপি। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top