আজকালের প্রতিবেদন
টেস্ট, আইসোলেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট। অর্থাৎ পরীক্ষা, রোগীকে বিচ্ছিন্ন করা ও চিকিৎসা। কোভিড–‌১৯ ভাইরাসের মোকাবিলায় বিশ্ব স্তরে স্বীকৃত একমাত্র পদ্ধতি এটিই। এর জন্য প্রয়োজন আরও অনেক বেশি পরীক্ষা। যত বেশি পরীক্ষা, করোনা–‌যুদ্ধে তত বেশি সাফল্য। ভারতে ব্যাপক গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে একই দাওয়াই বাতলাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে রাজনৈতিক নেতা সকলেই। আপাতত সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে দেশ। প্রধানমন্ত্রীর গড়া টাস্ক ফোর্সের সদস্য রামন আর গঙ্গাখেড়কর জানিয়েছেন, এপ্রিলের শেষেই অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কিট অনেক বেশি সংখ্যায় এসে যাবে। এই কিটের মাধ্যমে ২০ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষার ফল জানা যাবে। ফলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইও আরও অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠবে।
ইতিমধ্যে দেশে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ১১১ হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪,২৮১। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০০–র বেশি। এখনও পর্যন্ত যা একদিনের সর্বোচ্চ হার। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩১৮ জন।
করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত করতে সন্দেহজনক ব্যক্তির লালারসের নমুনা যাচাই করা হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে রোগী কোভিড–‌১৯–এর শুধুমাত্র বাহক হলে তা ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস বাসা বাঁধলেও তখনও আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ পরিস্ফুট হয় ‌না। বরং শরীর করোনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে। কিন্তু নিজের অজান্তেই সংক্রমণ ছড়িয়ে চলেছেন ওই ব্যক্তি। এমন করোনা–বাহকদের চিহ্নিত করতে এবার থেকে দ্রুত অ্যান্টিবডি–নির্ভর রক্ত পরীক্ষার নির্দেশিকা দিয়েছে ‘‌ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ’‌ বা আইসিএমআর। যার ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে করোনা–‌যুদ্ধ কিছুটা সহজ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রীর গড়া টাস্ক ফোর্সের সদস্য গঙ্গাখেড়কর জানান, এখনও পর্যন্ত এদেশে ৭০ হাজার জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এই পর্বে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করোনার তিনটি টিকা নিয়েও পরীক্ষা–‌নিরীক্ষা চলছে বলে জানান তিনি। গঙ্গাখেড়কর বলেন, এখনকার পরিস্থিতিতে দরকার আইসিইউ–‌তে রেখে চিকিৎসা করা, এবং সেজন্য প্রয়োজন আরও ভেন্টিলেটরের। এদিকে, সোমবার সকালে টুইটারে ‘‌টেস্ট মোর সেভ ইন্ডিয়া’‌ হ্যাশট্যাগ দিয়ে আরও অনেক বেশি পরীক্ষার দাবি তুলেছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রও। লিখেছেন, ‘‌করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকানোর একমাত্র পথ হল যত বেশি সম্ভব পরীক্ষা করা। তাহলেই আমরা সংক্রামিত ব্যক্তির চিকিৎসা করতে পারব। বেশি বেশি পরীক্ষা করো, চিকিৎসা করো— এটাই আমাদের মন্ত্র হওয়া উচিত। আপনাদের সকলের কাছে আবেদন, বেশি পরীক্ষার জন্য আওয়াজ তুলুন।’‌ এদিকে, দিল্লিতে ১ লক্ষ ‘‌টেস্টিং কিট’–এর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে যত বেশি সম্ভব পরীক্ষা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, ‘‌দিল্লিতে পিপিই কিটের অভাব ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার ২৭ হাজার পিপিই কিট দিচ্ছে।’‌ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণে দেশে সবার শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৮ জন। মৃত্যুতেও শীর্ষে রয়েছে এই রাজ্য। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। এরই মধ্যে মুম্বইয়ের ওকহার্ড হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ চিকিৎসক ও ২৬ নার্স। এর জেরে হাসপাতালটিকে ‘সংক্রামক এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। 
আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে ৫৭১ জন আক্রান্ত। মৃত ৫ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। মোট আক্রান্ত ৫২৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এরপর তেলেঙ্গানা ৩২১, কেরল ৩১৪, রাজস্থান ২৭৪ (‌একজনেরও মৃত্যু হয়নি)‌, উত্তরপ্রদেশ ৩০৫, অন্ধ্রপ্রদেশ ২২৬, মধ্যপ্রদেশ ১৬৫ (‌৯ জনের মৃত্যু হয়েছে)‌, কর্ণাটক ১৫১ এবং গুজরাট ১৪৪ (‌১২ জনের মৃত্যু হয়েছে)‌।‌

জনপ্রিয়

Back To Top