জরুরি অবস্থায় ছদ্মবেশে নাম বদলে ১৯ মাস গ্রেপ্তারি এড়িয়েছিলেন মোদি, কীভাবে?‌

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন মধ্যরাতে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ১৯ মাস জারি ছিল সেই জরুরি অবস্থা। সে সময় বিরোধী নেতাদের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল সরকার। ছাড় পাননি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক নেতারাও, যাঁরা বিরোধিতা করেছিলেন জরুরি অবস্থার। অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অনেকে পালিয়ে বেরিয়েছেন মাসের পর মাস। সেদিন ওই দলে ছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী মোদিও। তাঁর সেই অভিজ্ঞতাই এবার প্রকাশ্যে।
জরুরি অবস্থার সময় গুজরাটে সঙ্ঘ প্রচারকদের কীভাবে লড়তে হয়েছিল, তা নিয়ে বই লিখেছিলেন বিচার বিনিময় কেন্দ্র নামে এক সংগঠনের সদস্য। বইয়ের নাম ‘‌সংঘর্ষমা গুজরাট’‌। সেই বইয়ের ভূমিকায় দু’‌–এক পাতা নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। রাজনীতিক হিসেবে নয়, এক জন যোদ্ধা হিসেবে। তা থেকেই জানা যায়, কীভাবে ১৯ মাস পালিয়ে বেরিয়েছিলেন মোদি।
জরুরি অবস্থা যখন ঘোষণা হয়, তখন মোদি গুজরাটে। এর পর কখনও সাধু সেজে, কখনও শিখের ছদ্মবেশ নিয়ে কাটিয়েছিলেন। এই ছদ্মবেশে থাকাকালীনই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের। তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়েই গ্রেপ্তার হওয়া প্রচারকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতেন মোদি। কখনও আবার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বই ছাপানোর কাজ করতেন। 
মোদির লেখা থেকে জানা যায়, এক দিন ফিয়াট গাড়ি এসে দাঁড়ায় তাঁর আস্তানায়। সেখান থেকে নেমে আসেন কোচকানো কুর্তা, মাথায় সবুজ টুপি পরা এক বিরাট চেহারার লোক। হাতে সোনার চেন। মুখে দাড়ি। যেন কোনও মুসলিম ধর্মপ্রচারক। সবাই তাঁকে ডাকছেন ‘‌বাবা’‌। পরে জানতে পারেন তিনি আসলে জর্জ ফার্নান্ডেজ।
এর পর গুজরাটের বহু প্রেস ঘুরে হিন্দিতে লেখা কিছু বই ছাপানোর চেষ্টা করছিলেন মোদি। কেউই রাজি নয়। কারণ বইয়ে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লেখা। অবশেষে এক ছাপাখানার মালিক রাজি হন। সেখানে বই ছাপিয়ে রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি।