আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্ত্রী স্বাধীনচেতা। স্বামী সেটা মানতে পারেন না। এমন তো হামেশাই শোনা যায়। তবে এ একেবারে নতুন। স্ত্রী স্বাধীনচেতা বলে ডিভোর্সের আবেদন করায় আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুরও করে দিল। এবং দাবি, স্ত্রী শাঁখা সিঁদুর পরতে চায় না মানে তিনি এই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকতে চান না। এমনই ঘটনা ঘটে গেল গুয়াহাটিতে। 
২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয় এই দম্পতির। সুখেই ছিলেন। কিন্তু সমস্যা তখন থেকে শুরু হয় যখন স্ত্রী স্বামীর পরিবারের সঙ্গে একবাড়িতে থাকতে চান না। পরের বছর ৩০ জুন থেকে তাঁরা আলাদাভাবে থাকা শুরু করেন। মহিলা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, স্বামীর পরিবার তাঁকে নানাভাবে অত্যাচার করে। কিন্তু সেবিষয়ে কোনও সুরাহা পাননি তিনি। 
সম্প্রতি স্বামী তাঁর স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কোর্টে অভিযোগ জানান, তাঁর স্ত্রী শাঁখা সিঁদুর পরতে চাইছেন না। তাই তিনি ডিভোর্স চান। কিন্তু স্ত্রীয়ের তরফে কোনও হিংস্র আচরণের প্রমাণ না পেয়ে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় ফ্যামিলি কোর্ট। তারপরেই স্বামী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রধান বিচারপতি অজয় লাম্বা এবিং বিচারক সৌমিত্র সাইকিয়া আবেদন খতিয়ে দেখে জানান, ‘‌তাঁর স্ত্রী যদি শাঁখা সিঁদুর না পরেন, তাহলে তাঁকে অবিবাহিত হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। আর এটার মানে দাঁড়ায় তাঁর স্বামীর সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ককে তিনি মানতে চাইছেন না।’‌ ১৯ জুনের শুনানিতে এমনটাই জানানো হয়।  
তাঁদের আরও বক্তব্য, ‘‌স্বামী এবং স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া  অভিযোগ দায়ের করলে তা সুপ্রিম কোর্ট অনুযায়ী নিষ্ঠুরতার সমান। এবং ফ্যামিলি কোর্ট একটি বিষয়কে পুরোপুরি উপেক্ষা করে গিয়েছে। মহিলা তাঁর স্বামীকে তাঁর বয়স্ক মায়ের দেখভাল করার বিষয়ে বহুবার আপত্তি জানিয়েছেন। ২০০৭ সালে প্রণয়ন হওয়া বৃদ্ধ বাবা মায়ের ভরণপোষণ ও বর্ষীয়ান নাগরিক আইন– এর বিধান অনুসারে এই ঘটনা তাঁর নিষ্ঠুরতার দিককেই প্রকাশ করে।’

জনপ্রিয়

Back To Top