আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ জয়ার পর হেমা। সিনেমার জগতের বিরুদ্ধে মাদক–যোগের অভিযোগ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানালেন বিজেপি সাংসদ। স্পষ্ট বললেন, ‌বলিউড সব সময়ই সম্মানের জায়গায় বিরাজ করবে। মাদক বা স্বজনপোষণের অভিযোগ এনে কেউ এই জগৎকে খাটো করতে পারবে না। ‘‌আমি নাম, যশ, সম্মান, যা কিছু সব এই জগৎ থেকেই পেয়েছি। খুব খারাপ লেগেছে।’‌
মঙ্গলবারই রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ রবি কিষাণের মন্তব্যকে একহাত নেন জয়া বচ্চন। বাদল অধিবেশনের শুরুর দিন রবি কিষাণ লোকসভায় বলিউডের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। বলেছিলেন, ‘‌সিনেমার জগতেও মাদকাসক্তি রয়েছে।’‌ 
এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন সমাজবাদী সাংসদ জয়া। বলেন, ‘‌কয়েক জনের জন্য গোটা সিনেমার জগতের দিকে আঙুল তোলা ঠিক নয়। আমি সত্যিই বিব্রত এবং লজ্জিত যে, গতকাল লোকসভায় আমাদের এক সহকর্মী, যিনি আবার এই জগত থেকে এসেছেন, সেই সিনেমার জগতের বিরুদ্ধেই কথা বললেন। যে থালায় খান, সেখানেই ছিদ্র করেন।’‌  
রাজনৈতিকভাবে জয়ার বিরোধী। তবু একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় জয়ারই পাশে দাঁড়ালেন হেমা। বললেন, ‘‌আমি সকলকে বলতে চাই, বলিউড একটা সুন্দর জায়গা, সৃজনশীল জগৎ, শিল্প এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্র। আমি খুব দুঃখ পাই, যখন কেউ এই জগৎ নিয়ে খারাপ কিছু বলেন। মাদক বা অন্য কিছু অভিযোগ তোলেন। কোথায় হয় না এসব?‌ কোনও দাগ পড়লে, ধুয়ে নাও। দাগ চলে যাবে। বলিউডের দাগও ধুয়ে যাবে।’‌
এই বলিউডকে প্রতিষ্ঠা করতে অনেক শিল্পী পরিশ্রম করেছেন। সেকথাও মনে করালেন হেমা। বললেন, ‘‌কত মহান শিল্পী। ম্যাটিনি আইডলরা মানুষের রূপে ঈশ্বর ছিলেন। মানুষ ভাবত, তাঁরা শিল্পী নাকি ঈশ্বর!‌ রাজ কাপুর, দেব আনন্দ, ধর্মেন্দ্র, অমিতজি— এঁরা বলিউডকে ভারতীয়ত্বের সঙ্গে জুড়েছেন। বলিউডই ভারত। ওঁরা আমাদের জগৎকে এভাবে ঠাট্টা করলে মানতে পারি না।’‌
জয়ার সুরেই হেমাও বলেন, এক জন খারাপ মানে সিনেমার জগতে সবাই খারাপ, এটা বলা যায় না। স্বজনপোষণ নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। ‘‌কারও ছেলে বা মেয়ে বলিউডে যোগ দিলেই সুপারস্টার হয়ে যায় না। ভাগ্য, প্রতিভাও প্রয়োজন।’‌ একটা ছোট দাগ বলিউডকে কলঙ্কিত করতে পারে না। কারণ হেমার মতে, ‘‌হৃষিকেশ মুখার্জি, বিমল রায়, গুলজার, রমেশ সিপ্পি, সুভাষ ঘাইয়ের মতো শিল্পিদের অনেক অবদান রয়েছে এই বলিউডে। এক মিনিটে এই জগৎকে টেনে নামানো যায় না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top