ডাঃ পল্লব বসুমল্লিক: ০.‌০০৬ শতাংশ!‌ আদৌ কোনও ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে?‌ প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যায় আজ পর্যন্ত মাত্র ৬ জন কোভিড পজিটিভ!‌ চীনের কথাই বলছি। প্রায় ১৪৪ কোটির দেশে মোট আক্রান্ত ৮৫,৩৫১ জন। মৃত্যু ৪,৬৩৪। অথচ বিশ্ব জুড়ে অতিমারীর নান্দীরোল ওখানেই শুরু। কীভাবে অত্যাশ্চর্য নিয়ন্ত্রণ?‌ এখনও ৮০ শতাংশ মানুষ মুখোশ এঁটে তবেই ঘরের বাইরে বেরোচ্ছেন। চীনে দেশের সর্বত্র, এমনকী আনাচে–‌কানাচেও মানুষের শৃঙ্খলাবোধ, আত্মসংযত মনোভাব, অনুশাসন দৃষ্টান্তমূলক। এমন রেজিমেন্টেশন বেয়নেটের খোঁচায় শেখানো যায় না। ফেস মাস্ক পরার নিরিখে এগিয়ে থাকা প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে একমাত্র স্পেনেই আবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। মোট জনসংখ্যার ৯২ শতাংশ সিঙ্গাপুরবাসী নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করেছেন। ফার্স্ট তাঁরাই। স্পেনে ৯০, থাইল্যান্ড ৮৮, হংকং ৮৬, জাপান ৮৬ শতাংশ। সংখ্যা গুগল–‌এর, ৯ আগস্ট সর্বশেষ সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। লক্ষণীয়, এই দেশগুলো অধিকাংশই করোনা–‌দানবের দাপট রুখতে সমর্থ। সমীক্ষায় দেখাচ্ছে ভারত দশম স্থানে। উল্লেখিত সময়ে ৮২ শতাংশ ভারতবাসী নাকি সর্বক্ষণ মাস্ক পরে থেকেছেন!‌ বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলাতে কষ্ট হয়। এখনকার ছবিটা আরও ভয়াবহ। থুতনি বা গলায় ঝোলা দূরস্থান, শরীর থেকে অধিকাংশেরই মাস্ক বেমালুম হাওয়া।
মুখোশ সার্স–‌কোভ–‌২ বা নোভেল করোনাভাইরাস ছড়ানো কি আদৌ রুখতে পারে?‌ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পারে। তবে সঙ্গে চাই বাকি কোভিড প্রোটোকল বা অনুশাসন মেনে চলা যেমন, শারীরিক দূরত্ব এবং নিয়মিত হাত ধোয়া নয়তো যথার্থ স্যানিটাইজারের ব্যবহার। সুদীর্ঘ ৬ মাস নিরন্তর কোভিডচর্চায় আপনারা সবাই সম্যক জ্ঞানার্জন করেছেন। তবু কোথাও যেন মানতে বাধা এবং মেন্টাল ব্লক। অনেকে এখনও প্রশ্ন করছেন, অতিমারীর শুরু থেকে তো মাস্ক পরার ব্যাপারে অধিকাংশ দেশ তেমন কড়াকড়ি আরোপ করেনি। উত্তরটা সহজ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, এমনকী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (‌হু)‌ করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়ায় তা নিয়ে তুমুল ধন্দে ছিল। এখন তো এটাও জানা উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগে থেকেই কিন্তু একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ভাইরাস ছড়াতে পারেন। তাই সম্ভাবনা, মাস্ক পরা থাকলে আপনি কাউকে সহজে সংক্রমিত করতে পারবেন না। তিনিও আপনার শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে ব্যর্থ হবেন।
সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবকিশোর গুপ্ত মনে করেন, যতদিন না ভ্যাকসিন আসছে ততদিন মাস্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাস্ক ছাড়া চলাফেরা আত্মহত্যার শামিল। দূরত্ব সবসময় মানা সম্ভব না তাই মানুষ মুখোমুখি হলে মাস্কই বাঁচাবে। প্রখ্যাত বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অশোক সেনগুপ্ত জানালেন, মাস্ক পরার অর্থ নিজেকে বাঁচানো এবং রোগ না ছড়ানো। প্যানডেমিক ছড়ালে একটা সময় প্রচুর মানুষ উপসর্গহীন থাকেন ভুললে চলবে না। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ জ্যোতির্ময় পাল বলেন, যদি মাস্ক পরেন তবে একজনের শরীরে ভাইরাস থাকলেও তাঁর থেকে অন্যের ছড়ানোর সম্ভাবনা ৫ শতাংশেরও কম। ত্রিস্তর সার্জিক্যাল মাস্ক ঠিকমতো ব্যবহার করলে প্রতিরোধ প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্ভব। ক্যান্সার সার্জেন ডাঃ দীপ্তেন্দ্র সরকার সাবধান করলেন, মাস্ক না পরাটা মারাত্মক ক্ষতিকর। রেসপন্স ফ্যাটিগ। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত প্রতিরোধে প্রয়োজন মিলিটারি অনুশাসন। বাঁচার একমাত্র উপায় চোখ, নাক, মুখ ঢেকে রাখা। মাস্ক কত দিন? মেডিসিন অতি–‌বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুকুমার মুখার্জি বললেন, আগামী বাংলা নববর্ষ পর্যন্ত মাস্ক আমাদের সারাক্ষণের সঙ্গী থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
তথ্য সহায়তা:‌ প্রীতিময় রায়বর্মন‌

জনপ্রিয়

Back To Top