আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পকেটে দাঁত মাজার ব্রাশ কেনারও টাকা নেই। প্রায় বছর খানেক হতে চলল, বাড়িতে ডিম রান্না হয়নি। মাছ–মাংসের কথা তো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেন না দিল্লির বাসিন্দা বছর বাইশের রাহুল চৌধুরি এবং তাঁর পরিবার। সামর্থ্য নেই। থাকবেই বা কীকরে!‌ প্রত্যেকদিনের রোজগারই মাংসের দামের চেয়ে কম। কিন্তু আগে এত অভাবে দিন কাটত না রাহুলের পরিবারের। দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ অঞ্চলে প্লাম্বিংয়ের কাজ করে আগে মাসে ১৫ হাজার টাকা রোজগার করতেন রাহুল। তখন ভালভাবেই চলত পরিবার। কিন্তু ওই নোট বাতিলের সিদ্ধান্তই বদলে দেয় সবকিছু্। আগে বহুতলের কোনও একটি তলায় প্লাম্বিংয়ের কাজ করলেই মিলত দু’‌হাজার টাকা। নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পরই ধীরে ধীরে আবাসন প্রকল্পগুলি বন্ধ হতে শুরু করে। কারণ আবাসন শিল্প নগদ টাকার কারবারে চলে। আর নোট বাতিলের পর সেই নগদ টাকাই যদি ব্যাঙ্কে ফেলে দিতে হয়, সেখানে কারবার চলবে কীভাবে!‌ রাহুল সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘‌এখন প্লাম্বিংয়ের কাজে আগের মতো টাকা নেই। এখন বহুতলের সব তলায় প্লাম্বিংয়ের কাজ করলে পাওয়া যায় তিন থেকে চার হাজার টাকা। পাশাপাশি বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার ফলে বেড়ে গিয়েছে শ্রমিকের জোগান। অধিক শ্রমিকের কারণে পারিশ্রমিকও কমে গিয়েছে।’‌
বছর তিনেক আগে এই নভেম্বর মাসেই রাতারাতি নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই সিদ্ধান্তের কারণেই যে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ক্ষতি হয়ে গিয়েছে, তার প্রমাণ মিলছে একাধিক সংস্থার অর্থনৈতিক মূল্যায়ণ সমীক্ষায়। প্র‌ত্যেক সমীক্ষা থেকেই জানা যাচ্ছে, দেশের অর্থনীতি এখন নিম্নগামী। এই ঝিমুনি স্থায়ী হবে আরও বেশ কয়েক বছর। আর এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কেন্দ্রের মোদি সরকারের নোট বাতিল এবং জিএসটি নীতি। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top