‌তরুণ চক্রবর্তী: আমফানের কারণে প্রবল বৃষ্টিতে অসমে বন্যা–‌পরিস্থিতি। বরাপানি নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। প্লাবিত নলবাড়ি ও ধেমাজি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয়েও। শিলঙের বহু এলাকা জলমগ্ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বাড়ছে করোনার প্রকোপও। অসমে করোনা–‌আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২২২।
আমফান বাংলায় তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশ হয়ে অসম ও মেঘালয়ে নিম্নচাপ হয়ে প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই শুরু হয় বৃষ্টি। রাত থেকে বাড়তে থাকে বৃষ্টির দাপট। সঙ্গে ছিল ঝ‌ড়ো হাওয়া। তবে সেটা বাংলায় মহাঘূর্ণিঝড়ের মতো তাণ্ডব চালায়নি। প্রবল বর্ষাই বিপাকে ফেলেছে অসমের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে। মরশুমের প্রথম বন্যা বর্ষার আসার আগেই ধেমাজি ও নলবাড়ি জেলায় দেখা দেয় আমফানের কারণে। গোটা রাজ্যে জারি হয়েছে বন্যার সতর্কতা। অরুণাচলে প্রবল বৃষ্টিতে ফুঁসছে ব্রহ্মপুত্রও। মেঘালয় থেকেও পাওয়া গিয়েছে ভারী বৃষ্টিপাতের খবর। ধসও নেমেছে কয়েক জায়গায়। সব মিলে, বর্ষায় আগেই দুর্যোগ নেমে এসেছে উত্তর–পূর্বাঞ্চলে।
বন্যার পাশাপাশি করোনার দাপটও বেড়ে গিয়েছে। মাঝে কিছু দিন পরিস্থিতি কিছুটা ভাল হলেও, এখন ফের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। অসমে প্রতিদিনই বাড়তে শুরু করেছে কোভিড-১৯ পজিটিভ। শুক্রবার সংখ্যায় যা বেড়ে হয়েছে ২২২। করোনামুক্ত ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেঘালয়ে ফের ধরা পড়েছে করোনা পজিটিভ। একই ছবি মণিপুর, ত্রিপুরাতেও। ভিন্‌রাজ্য থেকে ঘরে–‌ফেরা মানুষদের কারণেই আক্রান্ত বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি বিপজ্জনক। সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দেন তিনি।

জনপ্রিয়

Back To Top