আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল নাবালিকাকে। তাও আবার বউ হিসেবে। রীতি মেনে বিয়ে করে ১০ বছরের নাবালিকাকে নিয়ে গিয়েছিল ৩৫ বছরের ব্যক্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের ভিডিও দেখে স্বামী, নাবালিকার বাবা ও এক দালালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি গুজরাটের আসারওয়া এলাকায় ঘটেছে। এই এলাকায় পুরুষের তুলনায় মেয়ের সংখ্যা কম। তাই বিয়ের সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পণ দেয় ছেলের বাড়ির লোক। আর এক্ষেত্রে ১০ বছরের এক নাবালিকাকে টাকা দিয়ে কিনে বিয়ে করেছিল এক ব্যক্তি। সে বয়সে নাবালিকার বাবার থেকেও বড়। সবটাই হয়েছিল এক দালালের মাধ্যমে।
মঙ্গলবার ওই নাবালিকাকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করেন আসারওয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার কে এম জোসেফ। কুবেরনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করে ওধাভেতে একটি মহিলা সুরক্ষা হোমে আপাতত নাবালিকাকে রাখা হয়েছে। 
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি একটি ভিডিও পাঠানো হয় জোসেফের অফিসে। সেই ভিডিওতে দেখা যায় এক ব্যক্তি একটি বাচ্চা মেয়েকে সিঁদুর পরিয়ে বিয়ে করছে। এই ভিডিও দেখেই খোঁজ শুরু করে পুলিশ। জানা যায় ওই ব্যক্তির নাম গোবিন্দ ঠাকুর। তারপরেই এক সরকারি আধিকারিক গোবিন্দের বাড়িতে পৌঁছন। সঙ্গে ছিল নাবালিকার বাবা।  নিজের মেয়েকে শনাক্ত করে নাবালিকার বাবা বলে, সে আগস্ট মাসে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিল। তার বদলে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে নাবালিকার নাম জগমল গামার।
পুলিশের জেরার মুখে গোবিন্দ স্বীকার করে, এক দালালের মাধ্যমে এই বিয়ে ঠিক হয়। প্রথমে ঠিক হয়েছিল গোবিন্দ দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে নেবে জগমলকে। বিয়ের আগে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল গোবিন্দ। কিন্তু বাকি এক লক্ষ টাকা দেয়নি। তাই নিয়ে দালালের সঙ্গে বচসা হয় তার। তারপরেই দালাল ওই বিয়ের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়। ভিডিও পাঠানো হয় পুলিশের কাছেও।
গোবিন্দ, নাবালিকার বাবা ও দালালের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top