সংবাদ সংস্থা, মুম্বই: কী দাবি ছিল, আর কী পাওয়া গেল— পড়া হচ্ছিল এক ‌এক করে। আর উল্লাসে ফেটে পড়ছিলেন কিসানরা। সোমবার রাতে দক্ষিণ মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে ছিল লাল ঝান্ডার বিজয়–উচ্ছ্বাস। মহারাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ‘‌লিখিত’‌ প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পেরেছেন কৃষকেরা। নাসিক জেলার গ্রাম থেকে আসা কাচরু মালকেয়ারের বিশ্বাস, এবার কিছু হিল্লে হবে। বাধ্য হবে সরকার। নাসিকেরই আরেক কৃষক রামু ভোয়ের মত, অরণ্যের জমির ওপর অধিকারের ব্যাপারে বিরাট একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারকে এবার কিছু করতেই হবে। জয়ের এই স্বাদ নিয়েই দেশ–‌কাঁপানো কিসান মার্চে আসা কৃষকেরা ফেরার পথ ধরলেন কাল রাতে। এবার আর রক্তপায়ে হাঁটা নয়। আজাদ ময়দান থেকে তাঁদের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল বাসের। ব্যবস্থা হয়েছিল দুটি বিশেষ ট্রেনের, এছাড়াও হাওড়া মেল, পঞ্চবটী এক্সপ্রেস ইত্যাদি ট্রেনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় বাড়তি কোচ। 
সিপিএমের কৃষক সংগঠন সারা ভারত কিসান সভার ডাকে ৭ মার্চ ৩০ হাজার কৃষক নাসিক থেকে রওনা দিয়েছিলেন মুম্বইয়ের মুখে। পথে আরও হাজার হাজার কৃষক যোগ দিয়েছেন তাঁদের সঙ্গে। গত রবি ও সোমবার শহরতলি–‌সহ মুম্বই মহানগরী দেখেছ লালের প্লাবন। দেখেছে ক্ষুধা–‌তৃষ্ণা, ক্ষত–‌ক্লান্তি নিয়েও সঙ্কল্প ও শৃঙ্খলায় স্থির একদল সৈনিককে। সাড়া দিয়েছে মুম্বইয়ের বিবেক। সাড়া দিতে হয়েছে কংগ্রেস, এনসিপি, শিবসেনার মতো দলগুলিকেও। এবং মাথা নোয়াতে হয়েছে ফড়নবিশ সরকারকে। শরিক দল শিবসেনা তাদের মুখপত্রে ‘‌সামনা’‌‌য় লিখেছে, এই লং মার্চ বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের গালে চড়। দাবি না মেনে উপায় ছিল না সরকারের। সরকারকে সিধে করে দিয়েছেন কিসানরা। কৃষকদের লিখিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের এটাই কিন্তু শেষ সুযোগ, বিজেপি নেতৃত্বকে সতর্ক করে দিয়েছে শিবসেনা। বিজেপি–‌র আপাতত কিল খেয়ে কিল হজম করা ছাড়া উপায় নেই। তবে দলীয় রাজনীতির ছকে বিষয়টিকে দেখানোর চেষ্টা চলছে। নাম গোপন রাখার শর্তে এক বিজেপি বিধায়ক বলেন, এটা আসলে কংগ্রেস, এনসিপি আর সিপিএমের যৌথ প্রচেষ্টা। লক্ষ্য আদিবাসী এলাকায় নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার। ত্রিপুরায় দলের বিপর্যয় থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে সিপিএম, এমন দাবিও করেন বিজেপি নেতাটি। অন্যদিকে, সারা ভারত কিসান সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বলেছেন, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রে কৃষক আন্দোলনের সাফল্যকে এবার জাতীয় স্তরে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এ বছরের শেষ দিকে শ্রমিক–‌কৃষকদের যৌথ কর্মসূচি নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। সেটা সম্ভব হলে দেশে প্রথম এমন কিছু ঘটবে। হান্নান মোল্লা জানান, গতকাল আজাদ ময়দানের জমায়েতে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি অনুরোধ করেছিলেন। ত্রিপুরা থেকে সোজা মুম্বইয়ে চলে আসেন ইয়েচুরি।

জনপ্রিয়

Back To Top