আজকাল ওয়েবডেস্ক: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৭.‌৭৫% সঞ্চয় বন্ডে আর বিনিয়োগ করা যাবে না। গত ২৭ মে একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। সম্প্রতি রেপো রেট ৪০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তারপরই জানানো হল, ২৮ মে–র পর থেকে কেন্দ্রের এই সঞ্চয় বন্ড প্রকল্পে আর লগ্নি করা যাবে না। কেন্দ্রের সেভিংস বন্ড, ২০১৮, একটি সরকারি প্রকল্প। সুরক্ষা বেশি থাকায় বন্ডটি বহু গ্রাহকের কাছে আকর্ষণীয় ছিল। বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের কাছে। এবার সেই প্রকল্প আর দীর্ঘায়িত না করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। স্থায়ী আমানতে ব্যাঙ্ক বা ডাকঘর যা সুদ দেয়, কেন্দ্রের এই প্রকল্পে টাকা ঢাললে আরও বেশি সুদ পাওয়া যায়। আগে ব্যাঙ্কে সুদ ৯ শতাংশের আশেপাশে থাকায় ৮% সুদের কেন্দ্রীয় সেভিংস বন্ডের পুরনো প্রকল্পটি খুব একটা জনপ্রিয় ছিল না। পরে ব্যাঙ্ক, ডাকঘরে সুদ ৬.৫%–এ নেমে আসায় নতুন করে নজরে এসেছে এই বন্ড। আর সেই কারণেই অবসরপ্রাপ্ত মানুষের টাকা রাখার ভাল জায়গা ছিল এই প্রকল্কটি। গত ২৭ মে স্টেট ব্যাঙ্ক এক বছরের স্থায়ী আমানতে সুদের হার কমিয়ে ৫.১% করেছে এবং পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদের স্থায়ী আমানত হলে দিচ্ছে ৫.‌৪% হারে সুদ। সেখানে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই বন্ড দিচ্ছিল অনেকটাই বেশি। বার্ষিক ৭.৭৫ শতাংশ হারে সুদ। যদিও সুদ পুরোপুরি করযোগ্য ছিল। দেশের অর্থনীতি এখন সঙ্কটে। বাজারে নেই চাহিদা। অনিশ্চয়তার বাজারে ব্যাঙ্কেই টাকা জমা রাখতে চান মানুষ। এদিকে ব্যাঙ্কগুলিও সেভিংস ও ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমিয়েই চলেছে। পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনাতেও সুদের হার কমেছে সম্প্রতি। তা ছাড়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারে অনিশ্চয়তা। কেন্দ্রের সেভিংস বন্ড প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তে বিপদে পড়বেন মধ্যবিত্তরাই বিনিয়োগকারীরাই। মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
তবে এই বন্ডে একবার লগ্নি করে টাকা তোলার ক্ষেত্রে বেশি কিছু সমস্যা ছিল। সাত বছরের আগে টাকা তোলা যেত না। যদিও বরিষ্ঠ নাগরিকদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় মিলত। যদি লগ্নিকারী ৬০–৭০ বছরের হন, তাহলে লগ্নির ছয় বছরের মধ্যে টাকা তুলতে পারবেন না তিনি। যদি তার বয়স ৭০–৮০ বছরের মধ্যে হয় তাহলে তিনি পাঁচ বছরের মধ্যে টাকা তুলতে পারবেন না। আর যদি বয়স ৮০ বছরের বেশি হয় তখন তিনি চার বছরের মধ্যে টাকা তুলতে পারবেন না। বন্ডে লগ্নির ক্ষেত্রে কোনও উর্ধ্বসীমা ছিল না। ন্যূনতম ১০০০ টাকার লগ্নি করা যেত। এই প্রকল্পে বিনিয়োগকারী দু’ভাবে সুদ পেতে পারতেন। এক হল, একেবারে মেয়াদ শেষে আসলের সঙ্গে পুঞ্জিভূত সুদ একসঙ্গে পাওয়া যেত। অন্য ক্ষেত্রে, ছ’‌মাসের পুঞ্জিভূত সুদ পাওয়া যেত। প্রতিবছর ৩১ জানুয়ারি এবং ৩১ জুলাই তারিখে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top