আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: ‘‌‌দের আয়ে, দুরুস্ত আয়ে।’‌ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হেঁটে চলে যেতে যেতে বলে গেলেন অভিনেত্রী সাংসদ জয়া বচ্চন। প্রসঙ্গ, তেলেঙ্গানা পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে ধর্ষকদের হত্যা। সাংবাদিকরা সবাই উত্তরটা শুনতে না–পেয়ে ফের প্রশ্ন করতেই আগের শব্দগুলোরই পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি। তারপর যোগ করেন, ‘‌‌ন্যায়বিচার হয়েছে।’‌ ক’‌দিন আগেই তিনি সংসদেই বলেছিলেন, ধর্ষকদের গণপিটুনি দিয়ে মারা উচিত। 
হায়দরাবাদের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক নেতানেত্রী থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা দ্বিধাবিভক্ত। কেউ প্রশংসা করছেন, তো কেউ প্রশ্ন তুলছেন। বিজেপির আইনজীবী–সাংসদ মীনাক্ষী লেখি বলেছেন, ‘‌পুলিশকে শো-‌কেসে তুলে রাখার জন্য হাতিয়ার দেওয়া হয়নি।’‌ তবে তাঁর সঙ্গে একমত নন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তাঁর বক্তব্য, ‘বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে খুনের ঘটনা কখনও মহিলাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের সমাধান হতে পারে না।’ সেইসঙ্গেই ইয়েচুরি বলেছেন, ‘‌২০১২ সালে দিল্লিতে জঘন্যতম অপরাধের পর আইন তৈরি হয়েছিল। কেন ওই আইন সরকার বাস্তবায়ন করছে না?‌ ক্রমবর্ধমান অপরাধের গ্রাফ, তার পরেও মহিলাদের ওপর বর্বরতা রুখতে উদাসীন মোদি সরকার।’‌ পুলিশের এনকাউন্টারের বিরোধিতা করেছেন এমআইএম প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। কংগ্রেস নেতা হোসেন দলবাই বলেছেন, ‘‌এটা ভুল পদক্ষেপ। আইন হাতে তুলে নিয়ে এনকাউন্টার করাকে সমর্থন করা যায় না। এ ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।’‌ 
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের মতে, গোটা ঘটনাটি আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, ‘‌নীতিগত ভাবে সমর্থন করছি। তবে বিষয়টি আরও জানার প্রয়োজন রয়েছে। বিচার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে খুন সামাজিক আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।‌’‌ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘‌মানুষ খুশি, কিন্তু বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে দেশবাসীর ভরসা উঠে যাচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে ভাবতে হবে কীভাবে বিচার ব্যবস্থার উন্নতি করা যায়।’‌ 
জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মা কিন্তু স্পষ্টই বলেছেন, ‘হায়দরাবাদ পুলিশ ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এটা তো তদন্তাধীন বিষয়। বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি চেয়েছিলাম। তবে ঘটনার সময় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ, তা প্রশংসার।’ বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী টুইটে লিখেছেন, ‘‌আমি আত্মবিশ্বাসী তেলেঙ্গানা পুলিশকে দেখে অন্য রাজ্যের পুলিশ এবার অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার পথ খুঁজে পাবে। যে পরিবারের মেয়েটি নির্মমতার শিকার হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল, সেই পরিবারের দুঃখ কমার নয়। কিন্তু, ধর্ষিতার আত্মা শান্তি পাবে। দেশের মহিলাদের ভীতি কমবে। জয় তেলেঙ্গানা পুলিশ!‌’‌ ‌‌

যেখানে মৃত্যু দিশার, সেখানে ফুল। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top