আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৭–র মার্চ যোগী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তারপর থেকে শুক্রবার বিকাশ দুবের এনকাউন্টারে মৃত্যু নিয়ে মোট ১১৯জন অভিযুক্ত নিকেশ হয়েছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে। তার মধ্যে ৭৪টি মামলার বিচারবিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল এবং সব কটিতেই যোগীর পুলিশকে ক্লিট চিট দেওয়া হয়েছে। ৬১টি মামলায় পুলিশের জমা দেওয়া ক্লোজার রিপোর্ট গৃহীত হয়েছে আদালতে। তথ্য বলছে, গত তিন বছরে উত্তর প্রদেশ পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তদের ৬১৪৫টি সংঘর্ষ হয়েছে যাতে ১১৯জন অভিযুক্ত নিকেশ হয় এবং ২২৫৮জন অভিযুক্ত জখম হয়েছে। কানপুরের বিক্রু গ্রামের ঘটনা সহ এপর্যন্ত মোট ১৩জন পুলিশকর্মী ওই সংঘর্ষগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। এবং ৮৮৫জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন।
২০১৪–য় মহারাষ্ট্র সরকার এবং  পিইউসিএল–এর একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, এধরনের ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুসারে এফআইআর আবশ্যক। এবং পুলিশের হাতে সব কটি মৃত্যুতেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত জরুরি। এই তদন্তে মৃতের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে সঙ্গে নিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আরএম লোঢা এবং বিচারপতি রোহিংটন ফলি নরিম্যানের বেঞ্চের ওই রায়ে আরও বলা হয়েছিল, পুলিশ যে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সেটা আদৌ দরকারি ছিল কিনা এবং তা বৈধ ছিল কিনা সেটা তদন্ত করতেই হবে। কিন্তু নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঐতিহাসিক বিচারের পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এনকাউন্টারে মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়া ক্রমাগত অমান্য করা হয়েছে এই সব ক্ষেত্রে।
গতবছর হায়দরাবাদের শামসাবাদে চিকিৎসকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যায় চার অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুতে ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টে প্রাক্তন বিচারপতি ভিএসিরপুরকরের নেতৃত্বে তদন্তের আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তেলঙ্গানা হাই কোর্টের বিচার প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেয় শীর্ষ আদালত। সেখানেও পুলিশ বলেছিল পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালাতে যাচ্ছিল অভিযুক্তরা। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি করেছিল। কিন্তু সাত মাসেও তদন্ত শেষ হয়নি। গত জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট উত্তর প্রদেশের একগুচ্ছ পুলিশি এনকাউন্টারের তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছিল। পিপলস্‌ ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিস বা পিইউসিএল নামক একটি সংগঠন এধরনের একহাজারটি এনকাউন্টারে ৫০জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। ২০১৮–র জুলাই থেকে ২০১৯–এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চারবার সেই মামলার শুনানি হলেও এখনও রায় বেরোয়নি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যোগী সরকারকে ২০১৭ থেকে তিনটি নোটিস পাঠিয়েছিল এধরনের এনকাউন্টার নিয়ে। রাজ্য সরকার নোটিসের বিরুদ্ধে নিজেদের সাফাই দিলেও কোনও আইনি পদক্ষেপ হয়নি এখনও।      ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top