আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দেশে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি শ্লথ হবে। চলতি অর্থ বর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ঐতিহাসিক পতনেই স্পষ্ট, এই অতিমারী দেশের অর্থনীতিকে ঠিক কতটা ক্ষতি করেছে‌!‌ বুধবার বণিকসভা ফিকির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে একথা বললেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। বলছেন, ‘‌পুনরুদ্ধারের পথ এখনও সুরক্ষিত নয়। তার চেয়েও বড় কথা, গত জুন–জুলাই মাসে যে ক্ষেত্রগুলি মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, সেগুলোও ফের ঝিমিয়ে গেছে। সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলি পুরোপুরি খুলে দেওয়া যাচ্ছে না। যার জেরে অর্থনীতির রথের চাকায় গতি ফিরতে সময় লাগবে।’‌ 
নগদের অভার এবং চাহিদায় ঘাটতির জেরেই অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে, মানছেন আরবিআই গভর্নর। সমস্যার মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই কম সুদে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বলছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘আমানতকারী এবং ঋণগ্রহীতা– দু’‌পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষাই জরুরি। তবে, ‌ব্যাঙ্কগুলির প্রাথমিক কর্তব্য, আগে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা। কারণ কোটি কোটি আমানতকারীদের অর্থেই ব্যাঙ্ক চলে। ছোট, মাঝারি, অবসরপ্রাপ্ত আমানতকারীদের একমাত্র ভরসা ওই সঞ্চিত অর্থ। পেট চলে সুদের টাকায়। তাই তাঁদের কথা সবার আগে ভাবতে হবে।’‌  
আরও বলছেন, অর্থনৈতিক অস্থিতাবস্থা এড়াতে অনুৎপাদক সম্পদের বোঝা কোনও ভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। অনুৎপাদক সম্পদের বোঝা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানো জরুরি। যা শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত করবে। 
তবে কম সুদে ঋণের অনুমোদন পাচ্ছে শুধু বড় কোম্পানিগুলিই। ছোট ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো কেন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে?‌ সেই প্রশ্নের উত্তরে শক্তিকান্ত দাস বলেন, ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছোট কোম্পানির তুলনায় বড় কোম্পানির ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা বেশি।  

জনপ্রিয়

Back To Top