আজকালের প্রতিবেদন,দিল্লি: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের মতোই নদীমাতৃক সভ্যতা ছিল সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা হরপ্পায়। কাজেই সেসময়, হরপ্পার বাসিন্দারা দিব্যি মাছ–মাংস খেত। যেমন খায় বাঙালিরাও। কিন্তু আমিষ খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মিলমিশ খায় না বিজেপি–‌র নব্য হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি। যে বিজেপি প্রমাণে মরিয়া, ভারতীয় সভ্যতা মানেই চিরন্তন শুদ্ধ শাকাহারী খাদ্যসংস্কৃতি। সুতরাং ফের বদলানোর চেষ্টা হল ইতিহাস। দিল্লির জাতীয় সংগ্রহশালা এবং এক বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ৫০০০ বছর আগের সিন্ধু সভ্যতার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এক প্রদর্শনী ও সুখাদ্য উৎসব থেকে বাদ গেল যাবতীয় আমিষ পদ। অথচ ‘‌হিস্টোরিক্যাল গ্যাস্ট্রনমিকা— দি ইন্ডাস ডাইনিং এক্সপিরিয়েন্স’‌ নামে এই আয়োজনের মুখ্য উদ্দেশ্যই ছিল, খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে কীভাবে সিন্ধু নদের তীরে এক সভ্যতার পত্তন হয়েছিল, সেই ইতিহাস চেখে দেখা!‌ অন্যতম উদ্যোক্তা ‘‌ওয়ান স্টেশন মিলিয়ন স্টোরিজ’‌ জানাচ্ছে, হরপ্পার আমলে যা যা খাওয়া হত, ইতিহাস অনুসারী সেই সব পদ পরিবেশন করার পরিকল্পনা ছিল। দু–একজন সাংসদ উৎসাহ নিয়ে খাদ্যতালিকাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার পরই বিপত্তি হয়। কোনও নির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়েই আমিষ পদগুলি বাদ দেওয়ার কথা বলে ন্যাশনাল মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। প্রদর্শনী শুরু হওয়ার মাত্র একদিন আগে।
দিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়াম সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে। কাজেই কোন নীরব অঙ্গুলিহেলনে ইতিহাসের এই খামখেয়ালি বদল, সেটা আন্দাজ করাই যাচ্ছে। যেহেতু বাঙালি–সহ ভারতের সমস্ত আমিষভোজীদের সংস্কৃতি যে আসলে অভারতীয় এবং অপবিত্র, লাগাতার সেই অপপ্রচার চালিয়ে যায় নব্য হিন্দুত্ববাদীরা। যদিও কোনওরকম ‘‌বাইরের প্রভাব’‌ থাকার কথা জোর গলায় অস্বীকার করেছেন ন্যাশনাল মিউজিয়ামের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল। এবং এক অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছেন তিনি। যে জাতীয় সংগ্রহশালায় অনেক দেব–দেবীর মূর্তি আছে। সেখানে আমিষ খাবার রাখাটাই ভুল হত। এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যাপার। অনেক বিদেশি দর্শক সংগ্রহশালা দেখতে আসেন প্রতিদিন। সেসব মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল!‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top