আজকাল ওয়েবডেস্ক: তেলুগু কবি ভারভারা রাওয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত তাঁর পরিবার এবং বিশিষ্টজনেরা। অবিলম্বে ৮১ বছরের কবির সুচিকিৎসার আবেদন জানিয়ে রবিবার তাঁর স্ত্রী হেমলতা, তিন মেয়ে পবনা, সহজা এবং অনলা মহারাষ্ট্র সরকারকে অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনে আর্জি জানান, ‘‌জেলেই মেরে ফেলবেন না ভারভারা রাওকে।’‌ 
পবনা রাওয়ের অভিযোগ, নিয়মমাফিক পুলিশি বন্দোবস্ত মতো তাঁদের বাবার সঙ্গে শেষ দুটি টেলিফোনে ভারভারার কণ্ঠস্বর প্রায় জড়ানো এবং দুর্বল শোনাচ্ছিল। এমনকি ৭০ বছর আগে তাঁদের ঠাকুর্দার শেষকৃত্যের গল্প করা সহ নানারকমের প্রলাপ বকছিলেন অশীতিপর কবি। তাঁর আরও অভিযোগ, শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম কমে গেলে এবং ইলেক্ট্রলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলেই এধরনের সমস্যা হয় এবং তালোজা জেলের হাসপাতালে সেই আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। পবনা বলেন, জ্বালাময়ী ভাষণ এবং জোরাল লেখার জন্য বিখ্যাত ভারভারা রাওকে শিশুর মতো কথা বলতে শুনে তাঁরা চমকে উঠেছিলেন। তাই অবিলম্বে বড় কোনও হাসপাতালে তাঁদের বাবাকে ভর্তি করতে আবেদন করেছেন কবির তিন মেয়ে। 
প্রসঙ্গত এলগার পরিষদ মামলায় অভিযুক্ত ভারভারা রাও ২০১৮ থেকে নবি মুম্বইয়ের তালোজা জেলে বন্দি। গত ২৮ মার্চে অজ্ঞান অবস্থায় তাঁকে মুম্বইয়ের জেজে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও তিনদিন পর ফের জেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন হেমলতা।
এদিকে, ভারভারা রাওয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত দেশের বিশিষ্টজনেরাও। ঐতিহাসিক রমিলা থাপার, অর্থনীতিবিদ প্রভাত পাটনায়েক এবং দেবকী জৈন, সমাজকর্মী সতীশ দেশপান্ডে এবং মানবাধিকার কর্মী মাজা দারুওয়ালা মহারাষ্ট্র সরকার এবং এনআইএ–কে একটি চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তাঁদের আবেদন, ভারভারা রাওয়ের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনও ঝুঁকি নেই পুলিশের। গত ২২ মাস ধরে ওই মামলার তদন্তে তিনি স্বেচ্ছায় সব কিছু জমা দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এরকম অবস্থায় সুচিকিৎসা দেওয়ার বদলে তাঁকে জেলে বন্দি করে রাখা ‘‌এনকাউন্টার’‌–এর সামিল বলে চিঠিতে অভিযোগ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।

জনপ্রিয়

Back To Top