আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সেনা দাবি করেছিল, ওঁরা জঙ্গি। কিন্তু নাহ্‌। ডিএনএ রিপোর্ট অন্য কথাই বলছে। জুলাই মাসে শোপিয়ানে এনকাউন্টারে নিহত তিন যুবক আসলে শ্রমিক। রাজৌরি থেকে কাজের খোঁজে সেখানে গেছিলেন। তিন জনে সম্পর্কে তুতো ভাই। 
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এদিন জানাল, আব্রার (‌২০)‌, ইমতিয়াজ (‌২৫)‌, ইব্রার (‌১৭)‌‌ তিন তুতো ভাই। ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এসেছে। পরিবারের সঙ্গেও নিহতদের ডিএনএ–র মিল পাওয়া গেছে। সেনা তাঁদের ‘‌জঙ্গি’‌ দাগিয়ে ভাড়া বাড়ি থেকে তুলে আনে। তার পর গুলি করে। 
এই ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে অন্তর্তদন্তের নির্দেশ দেয় ভারতীয় সেনা। তার পর জানায়, অভিযুক্ত জওয়ানরা আফস্পা আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাঁদের শাস্তি দেওয়া হবে। 
১৮ জুলাই অপারেশন আমশিপোরা–য় জঙ্গি সন্দেহে ইমতিয়াজ আহমেদ (‌২৫)‌, আবরার আহমেদ (‌২০)‌ এবং মহম্মদ ইবরারকে (‌১৭)‌ গুলি করে সেনা। নিহত হন রাজৌরির ওই তিন বাসিন্দা। স্থানীয়দের ওই নিহত তিন যুবকের দেহ শনাক্ত করতে ডাকে পুলিশ। কিন্তু তাঁরা শোপিয়ানের বাসিন্দা না হওয়ায় কেউই তাঁদের চিনতে পারেননি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তিন জনের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই তাঁদের পরিবারের লোকেরা ওই যুবকদের শনাক্ত করেন। তাঁদের দাবি, কাজের জন্য শোপিয়ানে গিয়েছিলেন ওই তিন যুবক। ১৭ জুলাই থেকে তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। এর পর দিন সেনার গুলিতে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ শুরু হয়। ভুয়ো সংঘর্ষে ওই যুবকদের মারা হয়েছে বলে দাবি ওঠে। তাঁদের সঙ্গে কোনও জঙ্গিযোগ নেই বলেও দাবি তোলে পরিবার। ১৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে পুলিশ। এদিন সেই ডিএনএ–র রিপোর্ট প্রকাশিত হল। পরিবারের অভিযোগ, গোটা বিষয়টা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল পুলিশ। 

জনপ্রিয়

Back To Top