আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি পুলিশ জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে চার্জশিট আনল ১৩ই ফেব্রুয়ারি। গত ১৫ই ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যে তাণ্ডব চলেছিল, তাতে পুলিশ তদন্ত করতে নেমে এক অভিযুক্ত যুবকের থেকে ইমামের নাম জানতে পারে। চার্জশিটে লেখা আছে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি কার্তুজ পেয়েছিল। অভিযুক্ত যুবক বলেছে, ইমামের প্ররোচনাতেই সেদিন তাঁরা ওই তাণ্ডব চালিয়েছিল। 
অবাক করার বিষয় হল, জামিয়ার ঘটনায় সেখানকার কোনও ছাত্রের নাম নেই চার্জশিটে। পুলিশের বিরুদ্ধে একদল মানুষ এ বিষয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করে জানাচ্ছেন, যে ফুটেজের এখনও তদন্ত চলছে তা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে কেন? পুরো ঘটনায় কতটা রাজনৈতিক রঙ রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় স্থানীয় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে আইপিসির ৩০৭, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৮৬, ৩৫৩, ৩৩২, ৪২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 
১৫ ডিসেম্বর সিএএর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার কাছে নিউ ফ্রেন্ডস কলোনীতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীরা চারটি পাবলিক বাস এবং দুটি পুলিশ গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ছাত্র, পুলিশ ও দমকল বাহিনীসহ প্রায় ৬০ জন আহত হয় গোটা ঘটনায়।
পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করেছিল। বিক্ষোভকারীরা জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তবে জামিয়া শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার  সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল এবং পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ করেছে। জেলা প্রশাসক (দক্ষিণ পূর্ব) চিন্ময় বিশ্বওয়াল বলেছেন, জামিয়ার পাশ থেকে আসা কয়েকজন লোক নিউ ফ্রেন্ডস কলোনির কাছে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে। প্রায় ১৫০০ বিক্ষোভকারীকে বারবার বলা সত্ত্বেও পুলিশকে অগ্রাহ্য করেই সেখানে রয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা, অথচ জেএনইউ–এর ছাত্রের নামে চার্জশিট এল। কিন্তু জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ছাত্রের নাম নেই কেন!

জনপ্রিয়

Back To Top