আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের বক্সারের পর এবার উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর। গত সোমবার গঙ্গার পাড়ে ভেসে ওঠা দেহ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বক্সারে। আর তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার একই চিত্র দেখা গেল উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে। যদিও এর আগে বিহার সরকারের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, উত্তরপ্রদেশ থেকে এই মৃতদেহগুলি ভেসে ভেসে আসছে তাদের রাজ্যে। বিহারে মৃতদেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই।

আর আজ উত্তরপ্রদেশে এই ঘটনা সামনে আসার পরই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, এগুলি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের দেহ। শ্মশানে পোড়ানোর এত স্থান, কাঠের জোগান না থাকায় এই মৃতদেহ ভাসিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। সেই দেহই ভেসে আসছে পাড়ে। গাজিপুরের জেলাশাসক এমপি সিংহ জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনার কথা শুনেছি। দেহগুলি কোথা থেকে, কী ভাবে আসছে, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।' ঘটনাস্থলে মঙ্গলবার হাজির হয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসারেরা।

 

বক্সারে যে দেহগুলি দেখা গিয়েছিল, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিল বিহারের প্রশাসন। একাংশের দাবি ছিল, সম্ভবত উত্তরপ্রদেশ থেকে মৃতদেহগুলি ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদিও সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু নদীর পাড়ে তৈরি হওয়া শ্মশানগুলিতে উত্তরভারত জুড়ে একই ছবি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন অনেকে। তাঁরা বলছিলেন, করোনায় মৃত্যুর হার এতই বেড়ে গিয়েছে শ্মশানেও বৈদ্যুতিক বা কাঠের চুল্লি নেই দাহ করার। তাই অনেকেই গঙ্গায় দেহ ভাসিয়ে দিচ্ছেন।ঘটনার কথা জানাজানি হতেই কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখওয়াত তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি টুইটে জানান, এই ঘটনা অনভিপ্রেত। মোদি সরকার সবসময়ের জন্যই ‘মা গঙ্গা'-কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর।

 

স্থানীয়রা অবশ্য কর্তৃপক্ষের অদক্ষতার অভিযোগ করেছেন এবং এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলেও জানিয়েছেন। সত্যিই সত্যিই করোনায় মৃতদের দেহ হলে এর থেকে করোনার সংক্রমণ হতে পারে বলেও সংখ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা।

জনপ্রিয়

Back To Top