আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘‌নিভার’।‌ দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি মঙ্গলবার পশ্চিম–উত্তর মুখে অগ্রসর হচ্ছে। মৌসম ভবন সূত্রে খবর, পুডুচেরি থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে এবং চেন্নাই থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি। 
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫–৬৫ কিলোমিটার। এটি যত অগ্রসর হবে, আরও শক্তি সঞ্চয় করবে বলে মৌসম ভবন জানিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছবে বলে জানানো হয়েছে। সেটা আরও শক্তি সঞ্চয় করে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের’ রূপ নিয়ে বুধবার বিকেলের দিকে মামাল্লাপুরম এবং কারাইকলের মাঝে আছড়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। সে সময় ঘূর্ণিঝড় নিভার এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারও।
ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু এবং পুডুচেরিতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলা এবং উদ্ধারকাজের জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৩০টি দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তামিলনাড়ুতে এদিন থেকেই আন্তঃজেলা বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে ঘরের বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
অন্ধ্রপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। নেল্লোর, চিত্তুর জেলায় হাওয়ার গতিবেগ সর্বোচ্চ হতে পারে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার। সঙ্গে চলবে বৃষ্টিও।  
এদিকে বাংলায় শীতের আমেজ অব্যাহত। দিনের বেলাতেও শীত শীত আমেজ। পাহাড়ে জবুথবু পরিস্থিতি। চলতি সপ্তাহে শীতের আমেজ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। 
সমতলের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। কোনও কোনও জেলায় পারদ আরও নিম্নমুখী। অন্যদিকে পাহাড় কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে। দার্জিলিঙের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কালিম্পঙে ৮.৫, শিলিগুড়িতে ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পশ্চিমের জেলাগুলিতেও পারদ পতন অব্যাহত। পুরুলিয়ায় ১০.৪ ডিগ্রি, পানাগড়ে ৯.৪ ডিগ্রি। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সকালের দিকে কুয়াশা থাকলেও বেলা বাড়তেই রোদ ঝলমলে আকাশের দেখা মিলেছে।


 

জনপ্রিয়

Back To Top