আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দলের অন্দরে কী মাওবাদী আছে?‌ এই প্রশ্নকে সামনে রেখে কেরল সিপিএম এখন ছাকনি নিয়ে খুঁজতে বেরিয়েছে। আর তাতে আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছে কেরল সিপিএম। দলেরই দুই সক্রিয় কর্মীর বিরুদ্ধে বহু বিতর্কিত ইউএপিএ আইনের ধারা লাগু করা নিয়ে কেরল সিপিএমের অন্দরে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এমনকী কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেছেন। যা নিয়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই মাওবাদী প্রসঙ্গ। 
তাহলে বিভক্তের সূত্রপাত কোথায়?‌ দলীয় সূত্রে খবর, দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি সুদূর বিলেত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে বিজয়ন সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানাননি। আর এখানেই তৈরি হয়েছে সংঘাত। কারণ সাধারণ সম্পাদকের মতের সঙ্গে সহমত হতে পারেননি বিজয়ন। এই কাজে আবার জড়িয়ে পড়েছে দলের ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই। এই দুই সংগঠন দলের অন্দরে ছাকনি নিয়ে খুঁজবে কে বা কারা মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। আর তা থেকে নাকি তাঁরা আবার শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া শুরু করবেন। 
রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে বিজয়ন ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা বেশ বিরক্ত হলেও পলিটব্যুরো সদস্য এস আর পিল্লাইকে পাশে পেয়েছেন বিজয়ন। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে চাপানউতোর চলাকালীন পিল্লাই বলেন, নীতিগতভাবে বিরোধী হলেও সংবিধানের বাধ্যবাধকতা রক্ষার তাগিদ রয়েছে সরকারের। তাই এই বিষয়ে অযথা জলঘোলা করা উচিত নয় কারও। কিন্তু তারপরও মাওবাদী খুঁজতে ছাকনি হাজির। কারণ পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, কেরল সিপিএমের অন্দের ৫০০ মাওবাদী সমর্থক রয়েছে। 
তারা কারা?‌ এটাই খুঁজতে ছাকনি হাতে দায়িত্ব পালন করবে ছাত্র ও যুব সংগঠন। কিন্তু যারা মাওবাদী সমর্থক তারা কী মার্কসবাদের সমর্থক নন?‌ নাকি দুটোরই সমর্থক?‌ এই নিয়ে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে দলের অন্দরেই। মাওবাদীদের খতম অপারেশনের ঠিক পরেই কোঝিকোড়ে সিপিএমের দুই সক্রিয় যুব কর্মীকে পুলিশ মাওবাদীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু বিতর্কিত নথি ও পুস্তিকাও পাওয়া যায় বলে পুলিশের দাবি। দু’জনের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারাও দেয় তারা। আর তাতেই দলের মধ্যে এই ইস্যুতে নয়া বিতর্ক শুরু হয়। নীতিগতভাবে সর্বভারতীয় পর্যায়ে ইউএপিএ আইনের তীব্র বিরোধী সিপিএম। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই নিয়ে তারা বহুবার তাদের আপত্তির কথাও সরাসরি জানিয়েছে। এই অবস্থায় বাম সরকারের পুলিশ সিপিএমেরই দু’জন কর্মীর বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারা প্রয়োগ করায় গোটা দলের ভিতরে হইচই শুরু হয়। এই ইস্যুতে দলের নেতৃত্ব থেকে সাধারণ সমর্থকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাহা ফাসাল এবং আলান শুহাইব দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top