আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কোভিডের জেরে লকডাউনে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। শুধু তাই নয়, ধনীরা আরও ধনী হয়েছে। গরিবরা আরও গরিব। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অক্সফাম–এর রিপোর্ট বলছে, লকডাউন আসলে শ্রেণীবৈষম্য আরও বাড়িয়েছে। শুধু ভারতে নয়, গোটা বিশ্বে। 
রিপোর্টে কোভিডকে বলা হয়েছে ‘‌বৈষম্যের ভাইরাস’ (‌দ্য ইনইক্যুয়ালিটি ভাইরাস)‌‌। যার জেরে কাজ হারিয়েছে লক্ষ লক্ষ গরিব। আর দেশের কোটিপতিরা নিজেদের সম্পত্তি বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ। কী কী রয়েছে রিপোর্টে দেখে নেওয়া যাক—
• লকডাউনে দেশের কোটিপতিদের সম্পত্তি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। ২০০৯ সাল থেকে এই সম্পত্তি বেড়েছে ৯০ শতাংশ। 
• মার্চ থেকে ভারতে প্রথম ১০০ জন ধনীর সম্পত্তি বেড়েছে ১২ লক্ষ ৯৭ হাজার কোটি। বর্ধিত সম্পত্তি থেকে এই ১০০ জন দেশের ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ গরিবের প্রত্যেককে ৯৪ হাজার ৪৫ টাকার চেক দিতে পারবে। 
• এদিকে এপ্রিলে দেশে প্রত্যেক ঘণ্টায় চাকরি হারিয়েছে এক লক্ষ ৭০ হাজার জন।
• দেশে প্রথম ১১ জন ধনীর লকডাউনে যত সম্পত্তি বেড়েছে, তা দিয়ে ১০ বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প চালানো যাবে।
• অন্যদিকে লকডাউনে সবথেকে ধাক্কা খেয়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা। এই ক্ষেত্রে ১২ কোটি ২০ লক্ষ কর্মী রয়েছেন দেশে। তাঁদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ কাজ হারিয়েছেন। 
• চার থেকে পাঁচ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। নয়তো টাকা পাননি।
• গত কয়েক বছরে দেশে অনলাইন পঠনপাঠন বেড়েছে। তাই বিওয়াইজেইউ, আনঅ্যাকাডেমি–র মতো সংস্থা লাভ করছে। এদিকে এদেশেই ২০ শতাংশ অত্যন্ত দরিদ্রের মধ্যে মাত্র তিন শতাংশ কম্পিউটারের সুবিধা পায়। ন’‌ শতাংশ ইন্টারনেট পরিষেবা পায়।
• রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, এদেশে শারীরিক দূরত্ব বজায়, সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া অনেকের পক্ষে অসম্ভব। শহর এলাকায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ৩২ শতাংশ মানুষের কাছে বিলাসিতা মাত্র। কারণ তাঁরা বেশির ভাগই এক অথবা দুই কামরার বাড়িতে বসবাস করেন। ৩০ শতাংশ মানুষের কাছে হাত ধোওয়ার জন্য সাবান, জল জোগানো কঠিন। 
• লকডাউনে লিঙ্গবৈষম্যও বেড়েছে। মহিলাদের মধ্যে বেকারত্ব ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশ হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top