স্বামীর বীর্য সংরক্ষণে আদালতে আবেদন, কী বলল আদালত?

আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বামীর বীর্য সংরক্ষণ করতে চাই। গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন করলেন স্ত্রী। অনুমতি দিল আদালত। স্বামী করোনার আক্রমণে মরনাপন্ন। ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। চিকিৎসকরা প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছেন। ভবিষ্যতে গর্ভধারণ করতে চেয়ে সোমবার তাঁর এই আবেদন আদালতে পেশ করা হয়। মঙ্গলবার আদালত স্ত্রী'র পক্ষে রায় দিয়ে হাসপাতালকে ওই ব্যক্তির বীর্য সংরক্ষণ করতে বলে। তবে এখনও গর্ভধারণের অনুমতি দেয়নি। বৃহস্পতিবার এবিষয়ে শুনানির সম্ভাবনা আছে। 
একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের চার বছর আগে কানাডায় পরিচয় হয় দু'জনের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মহিলার শ্বশুড়ের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর তাঁরা দেশে ফিরে আসেন। এরপর মে মাসে স্বামী করোনায় আক্রান্ত হন। ফুসফুসে জটিল সংক্রমণের জন্য সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন তিনি। অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকলে চিকিৎসকরা তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেন। কিন্তু হাসপাতালের তরফে স্ত্রী এবং পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয় অবস্থার উন্নতি হওয়া প্রায় অসম্ভব। হয়ত দিন তিনেকের আয়ু রয়েছে। 
এরপরেই স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন স্বামীর বীর্য সংরক্ষণের। যা থেকে আগামী দিনে মা হতে চান তিনি। মহিলা এই ইচ্ছায় পাশে পেয়েছেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির পরিজনদের। সেইমতো চিকিৎসকদের জানালে তাঁরা জানান, স্বামীর অনুমতি ছাড়া শুক্রাণুর নমুনা সংগ্রহ করা যাবে না। এরপরেই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
 জানা গেছে আদালতে ওই মহিলা বলেন, তিনি তাঁর স্বামীর বীর্য জমা রাখতে চান। যাতে তাঁর মৃত্যুর পরেও তিনি সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হন। চিকিৎসা আইনে বাধা আসছিল। দু'জনের ভালোবাসার শেষ চিহ্ন হিসেবে স্বামীর শুক্রাণু জমা রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্বামী ভেন্টিলেশনে আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর জীবিত থাকার সময় খুব কম।