সংবাদ সংস্থা, দিল্লি, ২৭ মে- আমেরিকা, চীন ‌ও ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড, এই তিন জায়গায় কোভিড ১৯–এর প্রতিষেধক আবিষ্কারে গবেষণার কাজ বেশ অনেক দূর এগিয়েছে। এমনও হতে পারে যে, তিন জায়গার গবেষকেরাই প্রায় একই সময়ে সফল হলেন। এটা প্রায় নিশ্চিত, ২০২১ সালেই হাতে চলে আসবে করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন। ভারতের মতো জনবহুল দেশকে ভেবে রাখতে হবে, কীভাবে তারা সেই ভ্যাক্সিন জোগাড় করতে পারে। কংগ্রেসের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ভিডিও–‌কথোপকথনে বললেন হার্ভার্ডের অধ্যাপক আশিস ঝা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, হার্ভার্ডের গ্লোবাল হেল্‌থ ইনস্টিটিউটের প্রধান অধ্যাপক ঝা–র সঙ্গে এই আলোচনায় শরিক হয়েছিলেন হার্ভার্ডে তঁার সহকর্মী, আরও এক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জোহান গিসেক। তঁারা দু’জনেই সতর্ক করেছেন, করোনা এখনই চলে যাচ্ছে না। বরং থাকছে, অন্তত আরও এক বছর। কাজেই সংক্রমণ রুখতে জোরদার পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া দরকার। বিশেষত ‘‌হাই রিস্ক’‌ এলাকাগুলিতে। এবং লকডাউন জারি রাখা দরকার একমাত্র সেই সব জায়গায়, যেখানে অবরোধ না রাখলেই নয়, বলেছেন অধ্যাপক গিসেক। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল–এর প্রাক্তন মুখ্য বিজ্ঞানী সুইডেনের অধ্যাপক গিসেক বলেছেন, ভারতের দরকার ‘‌সফ্‌ট লকডাউন’‌। যেখানে প্রতি পর্যায়ে একটা করে ছাড় দিয়ে দেখতে হবে সংক্রমণের হার বাড়ছে কি না। যদি বাড়ে, তা হলে ফের এক পা পিছিয়ে যেতে হবে। যদি সংক্রমণ না বাড়ে, তা হলে আরেকটা ছাড় দেওয়ার দিকে এগোতে হবে। নয়তো তঁার আশঙ্কা, ভারতের মতো দেশে দীর্ঘ দিন লকডাউনের কড়াকড়ি থাকলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে। এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক ঝা–র পরামর্শ, লকডাউন তুলে নেওয়ার পর সরকারকে ক্রমাগত ভরসা জুগিয়ে যেতে হবে দেশের মানুষকে। এবং মনে রাখতে হবে, এই করোনা অতিমারিই শেষ নয়, আগামী ২০ বছরে আরও একাধিক অতিমারির মুখোমুখি হবে বিশ্ববাসী।
এর আগে এই ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমেই রাহুল গান্ধী করোনা–‌পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জির সঙ্গে, যা প্রচারিত হয় কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলিতে। এদিন আরও একটি অনুষ্ঠানের কথা ঘোষণা করেছে কংগ্রেস, যেখানে অভিবাসী শ্রমিক, গরিব লোক, ছোট ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্তের অভাব–অভিযোগ তুলে ধরা হবে কেন্দ্র সরকারের সামনে। ওঁদের সবার বক্তব্য টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউব মারফত প্রচার করবেন কংগ্রেসের নেতা–‌কর্মীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত। এ ছাড়া সরকারের কাছে কংগ্রেসের দাবি, সমস্ত প্রবাসী শ্রমিককে নিজেদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক। তঁাদের উপার্জন বাড়াতে ১০০ দিনের কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে দ্বিগুণ, অর্থাৎ ২০০ দিন করা হোক। এবং আপৎকালীন সাহায্য হিসেবে প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আপাতত ১০ হাজার টাকা করে জমা দিক সরকার।

জনপ্রিয়

Back To Top