আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ২ আগস্ট জানা যায়, কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রিপোর্ট আসতেই তিনি সোজা চলে গেলেন পাশের রাজ্য হরিয়ানায়। সেখানে পাঁচ তারা হাসপাতাল মেদান্ত–তে ভর্তি হলেন। তাঁর চিকিৎসায় এইমস–এর একদল চিকিৎসককেও নিয়োগ করা হল। তাঁরা নিয়মিত মেদান্ত•তে গিয়ে দেখে আসছেন শাহকে। 
এর আগে এইমস–এর চিকিৎসকরা একবারই বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল তাঁদের। সেখানে ভর্তি ছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি–র জোটসঙ্গি এআইডিএমকে সুপ্রিমো জয়ললিতা। সেক্ষেত্রে অবশ্য তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের প্রয়োজনে সেই পদক্ষেপ হয়েছিল। 
কিন্তু দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এ রকম কোনও বিষয় নেই। ডায়বেটিস রয়েছে তাঁর। তাই বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। সেটা কি এইমস–এ হত না?‌ কেন ভরসা রাখলেন না সরকারি হাসপাতালের ওপর?‌ প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সহ অনেকেই। অথচ এই শাহই ১৪ এপ্রিল টুইট করে দেশের করোনা–যোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। বিশেষত চিকিৎসক এবং চিকিৎসা কর্মীদের। সেদিন দেশের করোনা হাসপাতালগুলোর ওপর কপ্টারে বসে আকাশ থেকে ফুল ফেলেছিল বায়ুসেনা। শাহ লিখেছিলেন, ‘‌মোদি সরকার সহ গোটা দেশের মানুষ আপনাদের পাশে আছেন।’‌ 
নিজের রোগের সময় সেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপরই কি আর ভরসা রাখতে পারছেন না শাহ!‌ বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভরসা রাখবেন? অথচ‌ দেশের গরিব মানুষের সরকারি হাসপাতালে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। এর পরেও সরকার কেন সেগুলোর উন্নয়নের জন্য কিছু করছে না?‌ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শাহ একা নন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ভোপালের চিরায়ু হাসপাতালে। রাজ্যের আরও তিন মন্ত্রীও আক্রান্ত। এক জন বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বাকি দু’‌জন মুখ্যমন্ত্রীর মতো চিরায়ু হাসপাতালে ভর্তি। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা ভর্তি হয়েছেন বেঙ্গালুরুর অন্যতম সেরা বেসরকারি হাসপাতাল মণিপাল–এ। 
তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বনোয়ারি লাল পুরোহিত চেন্নাইয়ের বেসরকারি কাবেরী হাসপাতালে কোভিড টেস্ট করান। রিপোর্ট পজিটিভ এলে ভর্তি হন অ্যাপোলো হাসপাতালে। তামিলনাড়ুর বিদ্যুৎমন্ত্রী পি থাঙ্গামানিও কোভিড আক্রান্ত হয়ে অ্যাপোলো–তে ভর্তি। বাকি দুই মন্ত্রী ভর্তি চেন্নাইয়ের আর এক বেসরকারি হাসপাতাল মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অফ অর্থোপেডিক অ্যান্ড ট্রমাটোলজি।
পাঞ্জাবের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী তৃপ্ত সিং বাজোয়া মোহালির ফর্টিস হাসপাতালে ভর্তি। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন প্রথমে সরকারি রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে সাকেতের বেসরকারি হাসপাতাল ম্যাক্সে ভর্তি হন। জানান, সরকারি হাসপাতালে প্লাজমা থেরাপির অনুমোদন তখনও দেয়নি কেন্দ্র সরকার। 
মহারাষ্ট্রের দুই মন্ত্রী অশোক চভন এবং ধনঞ্জয় মুণ্ডে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি। আর এক মন্ত্রী জিতেন্দ্র আওহাদ ফর্টিসে ভর্তি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিহারের রাজদ নেতা রঘুবংশ প্রসাদ সিং বরং ভরসা রেখেছেন সরকারি হাসপাতালে। ভর্তি হয়েছেন পাটনার এইমস–এ। ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী মিথিলেশ থাঙ্কুরও রাঁচির সরকারি হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন। গুজরাটের মন্ত্রী রামন পাটকার আমেদাবাদের সরকারি হাসপাতাল ইউ এন মেহতা–য় ভর্তি।  

জনপ্রিয়

Back To Top