সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: মে মাসের শুরু থেকেই ভারতে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। জুন, সম্ভবত জুলাই মাস জুড়ে এটা বাড়তেই থাকবে, তুঙ্গে পৌঁছবে। আগস্ট নাগাদ শুরু হবে ‘‌হার্ড ইমিউনিটি’‌। বহু মানুষের রোগ–‌প্রতিরোধ ক্ষমতার সম্মিলিত লড়াই সংক্রমণের বিরুদ্ধে। বললেন দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার বলবিন্দর অরোরা। দিল্লি এইমস–এর পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়াও আগে বলেছিলেন, জুন–জুলাই নাগাদ ভারতে তুঙ্গে পৌঁছবে করোনা সংক্রমণ। অরোরা বলছেন, একসঙ্গে অনেকের সংক্রামিত হওয়া, একসঙ্গে অনেকের চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরই শুরু হবে সমবেত রোগ–‌প্রতিরোধ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা বলে, একবার হার্ড ইমিউনিটি শুরু হয়ে গেলে, আগে যঁারা সহজে সংক্রমিত হচ্ছিলেন, অসুস্থরা, বৃদ্ধরা, তঁাদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ নিরাপদ হতে থাকবে। করোনা সংক্রমণ কেন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না?‌ অরোরার উত্তর, ‘‌ভাইরাসটি ক্রমাগত চরিত্র বদলাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে না থেকে গোটা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বাগে আনা যাচ্ছে না।’‌ লকডাউন তুলে নিলে, ক্রমশ স্বাভাবিক জনজীবন চালু হলে কী হবে?‌ অরোরার সতর্কবার্তা, নাগরিকদের অভ্যাস বদলাতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। এক জায়গায় খুব বেশি হলে পঁাচজন জড়ো হবেন। তিনজন হলে আরও ভাল। সেই তিনজনের মধ্যেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, করোনার কোনও প্রতিষেধক নেই। কাজেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে।‌‌
দিল্লি আইআইটি ও জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি জানিয়েছে, করোনা রুখতে কার্যকর হতে পারে অশ্বগন্ধা। অশ্বগন্ধা রোগ–‌প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিষয়টি বহু–‌পরীক্ষিত। তাদের দাবি, অশ্বগন্ধা ও প্রোপোলিসে এমন কিছু স্বাভাবিক উপাদান আছে, যা করোনার কার্যকর ওষুধ হতে পারে। ইতিমধ্যে করোনা উপশমে অশ্বগন্ধা ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের বিকল্প হতে পারে কি না জানতে গবেষণা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ মন্ত্রক। গবেষকেরা বলছেন, প্রোটিন বিভাজনের জন্য গবেষকেরা মূল সার্স–‌কোভিড ২ এনজাইমকে টার্গেট করেন। মানবশরীরে এই এনজাইম তৈরি হয় না। গবেষণায় জানা গেছে, অশ্বগন্ধা করোনার ওষুধ হিসেবে ভাল কাজে আসতে পারে। তবে এ ব্যাপারে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মন্তব্য গবেষকদের।

জনপ্রিয়

Back To Top