সমীর ধর
আগরতলা, ১০ এপ্রিল

কার্যত অঘোষিত জরুরি অবস্থা চালু হয়ে গেল ত্রিপুরায়। লকডাউনের মধ্যে চিকিৎসা‌কর্মী বিক্ষোভের জেরে জারি করা হল অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ব্যবস্থাপনা আইন এসমা‌। বন্ধ করা হল সরকারি কর্মচারীদের মুখ। সরকারের কোনও কাজের সমালোচনা করা যাবে না। কত দিনের জন্য, কেউ জানে না! করোনা–‌চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে এন-৯৫ মাস্ক–‌সমেত উপযুক্ত সুরক্ষা–‌সরঞ্জাম তথা পিপিই–‌র দাবিতে বিক্ষোভ করায় এবং সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলায় এ–পর্যন্ত ১৮ জন নার্সকে কারণ দর্শানোর নোটিস ধরানো হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় ত্রিপুরাই দেশের প্রথম রাজ্য, যেখানে জারি হল ‘‌কালা কানুন’‌ হিসেবে কুখ্যাত ‌এসমা। বুধবার রাতে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব নিজেই ‌এসমা‌ জারির ঘোষণা করেন। এর আগে, মার্চ মাসের ১৭ তারিখ করোনা রুখতে রাজ্য জুড়ে ১৪৪ ধারা জারির প্রথম কৃতিত্বও কিন্তু বিপ্লব–‌সরকারেরই। মুখ্যমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি যেখানে, সেই গোমতী জেলায় রাজ্যের প্রথম করোনা–‌আক্রান্ত পাওয়ার পরও সেখানে  সাধারণ মানুষ লকডাউনের মধ্যেই প্রশাসনের কথা না শুনে বিক্ষিপ্ত ভাবে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন। এজন্য গোটা জেলায় জারি হয়েছে কার্ফু। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন আইন ও শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ। তিনি আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং কৈলাসহর জেলা হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বিক্ষোভ দেখানো সম্পর্কে সরকারের কঠোর মনোভাবের কথা জানান। তঁার কথায়, এন-৯৫ মাস্ক–‌সহ পর্যাপ্ত পিপিই রয়েছে সরকারের হাতে। কিন্তু তিনি বলেন, এন-৯৫ মাস্ক সবার জন্য নয়। কাকে কী সুরক্ষা–‌সরঞ্জাম দেওয়া হবে, সেটা সরকার ঠিক করবে। কথার তোড়ে তিনি বলে ফেলেন, তিনি নিজে অবশ্য এন-৯৫ মাস্কই ব্যবহার করছেন। তবে ওই মাস্ক যে তিনি নিজের বাড়ি থেকেই পেয়েছেন, সে–‌কথাও জানাতে ভোলেননি। মন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়েই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কেননা মুখ্যমন্ত্রীকে যেমন ওই রকম মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী–‌জায়া নীতি দেবকে এন-৯৫ মাস্ক পরেই দোকানে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। মন্ত্রী রতনলাল নাথ কি বলতে চেয়েছেন যে, হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তারবাবুদের ব্যক্তিগত ভাবে কিনেই পিপিই ব্যবহার করতে হবে? নাকি ওই সব ছাড়াই তঁারা জীবনের ঝুঁকি নিতে বাধ্য?এদিকে আরেক প্রশাসনিক আদেশে দপ্তরের সচিব, পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল, মুখ্য বন সংরক্ষক, জেলাশাসক ছাড়া আর কারও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তা–‌ই নয়, কোনও সরকারি কর্মচারী কোথাও সরকারের কোনও কাজ বা নীতির সমালোচনা করতে পারবেন না বলেও নির্দেশ জারি হয়েছে। অন্য দিকে,  সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী রাজ্য সরকারকে এখনই ‘‌দানবীয় আইন’‌ এসমা এবং নার্সিং কর্মীদের ওপর জারি–‌করা শো–‌কজ নোটিস প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। চিকিৎসাকর্মীদের সমস্যাকে এভাবে পাশ না কাটিয়ে তঁাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা–‌সরঞ্জাম সরবরাহ করতে এবং পরিযায়ী শ্রমিক–‌সহ রেশন কার্ড নেই এমন সব শ্রমজীবীকে নিখরচায় রেশন ও পঁাচ হাজার টাকা করে দিতে দাবি করেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষকান্তি বিশ্বাসও এসমার প্রত্যাহার চেয়েছেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top