আজকালের প্রতিবেদন
‘আমরা আপনার কথা শুনব। ৫ এপ্রিল আলোক–‌‌দিবস পালন করব। কিন্তু, বিনিময়ে আপনিও আমাদের কথা শুনুন। অতিমারী–বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদদের কথাও শুনুন।’‌ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে এই বক্তব্য কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের। তিনি আরও বলেছেন, ‘‌আজ আপনার কাছ থেকে আমরা দ্বিতীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিকল্পনা ঘোষণা আশা করেছিলাম। গরিবের জীবনযাত্রার জন্য উপযুক্ত প্যাকেজ ঘোষণার আশা করেছিলাম। ২৫ মার্চ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে গরিবদের উপেক্ষা করেছেন, তাঁদের জন্যেও কিছু ঘোষণার আশা করেছিলাম।’‌ প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় কর্মরত নারী–‌‌পুরুষ, ব্যবসায়ী, খেটেখাওয়া শ্রমিক ও মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার কোনও ঘোষণা না–থাকায় মানুষ হতাশ হয়েছেন বলে মোদিকে কটাক্ষ করেছেন এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।
এর মধ্যে অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর একটি টুইট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রসিকতার সুরে তাপসী লিখেছেন, ‘‌এখন নতুন কাজ পেলাম। ইয়ে ইয়ে ইয়ে!’ মুহূর্তে ভাইরাল সেই টুইট। তারপর ট্রোলড হতে হয়েছে তাঁকে। তবে তিনি একাই নন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা–‌‌সহ নানা মহলের মানুষ। তাঁদের প্রশ্ন, ‌এ সব করে লাভ কী?‌ কোন যুক্তিতে করোনা–‌‌সঙ্কটের এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনও দিশা দেখানোর পরিবর্তে গৃহবন্দি মানুষকে হুজুগের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?‌ করোনা–‌‌যুদ্ধে হাসপাতালগুলোয় প্রকৃত যাঁরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হচ্ছে না। সেই বিষয়ে একটিও বাক্য ব্যয় না করে দেশবাসীকে ‘‌নাটক’‌ করতে বলছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের জন্য আর্থিক প্যাকেজের দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেছেন, ‘‌আলো নিভিয়ে বারান্দায় বেরিয়ে আসতে হবে?‌ বাস্তবে ফিরে আসুন মোদিজি। দেশকে জিডিপি–‌‌র ৮–‌‌১০ শতাংশের আর্থিক প্যাকেজ দিন। লকডাউন পর্বে নির্মাণকর্মী ও অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে মজুরি নিশ্চিত করুন। এজন্য আইন তৈরি হয়ে আছে। ভুয়ো খবর বন্ধ করার নামে প্রকৃত বিষয়গুলি দমানোর চেষ্টা বন্ধ করুন।’‌ মোদিকে কটাক্ষ করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। টুইটে মোদির উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘মোমবাতি জ্বালানোর চেয়ে নিজের হৃদয়ে আলো জ্বালান। তাতে দেশ আরও উন্নত হবে।’‌ 
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার পর বিষয়টিকে ‘‌চটকদারি’‌ ও ‘‌হিন্দু প্রতীক চাপিয়ে দেওয়া’‌র অভিসন্ধি বলেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। আরও বলেছেন, ‘‌ফিল গুড মুহূর্ত তৈরি করতে চাইছেন ভারতের ফটো–‌‌অপ প্রধানমন্ত্রী।’‌ তিনি টুইটে লেখেন, রামনবমীর দিন সকাল নটায় মোদি বলেছেন রবিবার রাত নটায় ন’‌মিনিট মোমবাতি–প্রদীপ জ্বালাতে। এর সঙ্গে হিন্দুত্বের অনুষঙ্গ খুবই স্পষ্ট, বলেছেন থারুর। এরপর অবশ্য নেটিজেনরা তাঁকে মনে করিয়ে দেন, শুক্রবার ছিল দশমী। রামনবমী ছিল বৃহস্পতিবার। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিবালও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন। বলেছেন, করোনা রুখতে সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তার কিছুই বললেন না প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসকদের রক্ষা করুন। তাঁদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দিন। কর্মহীন ও গরিব মানুষের কাছ খাবার পৌঁছে দিন।
তবে বিরোধীদের অনেকই মেনে নিয়েছেন যে দেশে লকডাউনের ফলে মনোরোগের সংখ্যা বাড়ছে। পারিবারিক সমস্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সবাই মিলে কোনও কাজে অংশ নিলে মনে শান্তি ফিরবে। দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। তবে তাঁদের বক্তব্য, এর পাশাপাশি অন্য জরুরি কথাগুলোও বলা উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর। দলের এই মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটেছে পি চিদম্বরমের বক্তব্যে।
আরেক শীর্ষ কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল বলেন, ভাইরাস মোকাবিলা, গরিবদের কাছে খাবার এবং অন্য দরকারি সামগ্রী পৌঁছনো, পরিযায়ী কর্মহীন শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য, পরীক্ষার কিট সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের সুরক্ষা নিয়ে একটা বাক্যও খরচ করেননি মোদি। তাঁর পরামর্শ, কোনও কারণের জন্য প্রদীপ জ্বালানো উচিত, কুসংস্কারের জন্য নয়। 
‌আজকালের প্রতিবেদন
দিল্লি, ৩ এপ্রিল
‘আমরা আপনার কথা শুনব। ৫ এপ্রিল আলোক–‌‌দিবস পালন করব। কিন্তু, বিনিময়ে আপনিও আমাদের কথা শুনুন। অতিমারী–বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদদের কথাও শুনুন।’‌ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে এই বক্তব্য কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের। তিনি আরও বলেছেন, ‘‌আজ আপনার কাছ থেকে আমরা দ্বিতীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিকল্পনা ঘোষণা আশা করেছিলাম। গরিবের জীবনযাত্রার জন্য উপযুক্ত প্যাকেজ ঘোষণার আশা করেছিলাম। ২৫ মার্চ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে গরিবদের উপেক্ষা করেছেন, তাঁদের জন্যেও কিছু ঘোষণার আশা করেছিলাম।’‌ প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় কর্মরত নারী–‌‌পুরুষ, ব্যবসায়ী, খেটেখাওয়া শ্রমিক ও মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার কোনও ঘোষণা না–থাকায় মানুষ হতাশ হয়েছেন বলে মোদিকে কটাক্ষ করেছেন এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।
এর মধ্যে অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর একটি টুইট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রসিকতার সুরে তাপসী লিখেছেন, ‘‌এখন নতুন কাজ পেলাম। ইয়ে ইয়ে ইয়ে!’ মুহূর্তে ভাইরাল সেই টুইট। তারপর ট্রোলড হতে হয়েছে তাঁকে। তবে তিনি একাই নন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা–‌‌সহ নানা মহলের মানুষ। তাঁদের প্রশ্ন, ‌এ সব করে লাভ কী?‌ কোন যুক্তিতে করোনা–‌‌সঙ্কটের এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনও দিশা দেখানোর পরিবর্তে গৃহবন্দি মানুষকে হুজুগের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?‌ করোনা–‌‌যুদ্ধে হাসপাতালগুলোয় প্রকৃত যাঁরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হচ্ছে না। সেই বিষয়ে একটিও বাক্য ব্যয় না করে দেশবাসীকে ‘‌নাটক’‌ করতে বলছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের জন্য আর্থিক প্যাকেজের দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেছেন, ‘‌আলো নিভিয়ে বারান্দায় বেরিয়ে আসতে হবে?‌ বাস্তবে ফিরে আসুন মোদিজি। দেশকে জিডিপি–‌‌র ৮–‌‌১০ শতাংশের আর্থিক প্যাকেজ দিন। লকডাউন পর্বে নির্মাণকর্মী ও অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে মজুরি নিশ্চিত করুন। এজন্য আইন তৈরি হয়ে আছে। ভুয়ো খবর বন্ধ করার নামে প্রকৃত বিষয়গুলি দমানোর চেষ্টা বন্ধ করুন।’‌ মোদিকে কটাক্ষ করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। টুইটে মোদির উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘মোমবাতি জ্বালানোর চেয়ে নিজের হৃদয়ে আলো জ্বালান। তাতে দেশ আরও উন্নত হবে।’‌ 
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার পর বিষয়টিকে ‘‌চটকদারি’‌ ও ‘‌হিন্দু প্রতীক চাপিয়ে দেওয়া’‌র অভিসন্ধি বলেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। আরও বলেছেন, ‘‌ফিল গুড মুহূর্ত তৈরি করতে চাইছেন ভারতের ফটো–‌‌অপ প্রধানমন্ত্রী।’‌ তিনি টুইটে লেখেন, রামনবমীর দিন সকাল নটায় মোদি বলেছেন রবিবার রাত নটায় ন’‌মিনিট মোমবাতি–প্রদীপ জ্বালাতে। এর সঙ্গে হিন্দুত্বের অনুষঙ্গ খুবই স্পষ্ট, বলেছেন থারুর। এরপর অবশ্য নেটিজেনরা তাঁকে মনে করিয়ে দেন, শুক্রবার ছিল দশমী। রামনবমী ছিল বৃহস্পতিবার। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিবালও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন। বলেছেন, করোনা রুখতে সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তার কিছুই বললেন না প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসকদের রক্ষা করুন। তাঁদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দিন। কর্মহীন ও গরিব মানুষের কাছ খাবার পৌঁছে দিন।
তবে বিরোধীদের অনেকই মেনে নিয়েছেন যে দেশে লকডাউনের ফলে মনোরোগের সংখ্যা বাড়ছে। পারিবারিক সমস্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সবাই মিলে কোনও কাজে অংশ নিলে মনে শান্তি ফিরবে। দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। তবে তাঁদের বক্তব্য, এর পাশাপাশি অন্য জরুরি কথাগুলোও বলা উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর। দলের এই মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটেছে পি চিদম্বরমের বক্তব্যে।
আরেক শীর্ষ কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল বলেন, ভাইরাস মোকাবিলা, গরিবদের কাছে খাবার এবং অন্য দরকারি সামগ্রী পৌঁছনো, পরিযায়ী কর্মহীন শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য, পরীক্ষার কিট সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের সুরক্ষা নিয়ে একটা বাক্যও খরচ করেননি মোদি। তাঁর পরামর্শ, কোনও কারণের জন্য প্রদীপ জ্বালানো উচিত, কুসংস্কারের জন্য নয়। 

জনপ্রিয়

Back To Top