সংবাদ সংস্থা, দিল্লি, ২৫ মার্চ- প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন দেশব্যাপী লকডাউনে অত্যাবশ্যক পণ্য সরবরাহে কোনও ঘাটতি হবে না। তবু প্রথম দিনেই ধাক্কা খেল অনলাইনের সরবরাহ ব্যবস্থা। যে–‌সব গুদামে মাল মজুত থাকে, বুধবার সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। মাঝরাস্তা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় কাজে যোগ দিতে আসা কর্মীদের। ফলে এদিন চরম সমস্যায় পড়তে হয় অনলাইনে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহকারী সংস্থা ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজন–‌কে। সমস্যায় পড়ে ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম বিগ বাস্কেট, গ্রোফার্স এবং ফ্রেশ টু হোমস–‌এর মতো সংস্থাগুলিও। এর জেরে আগাম অর্ডার দিয়েও মাল পাননি দেশের কয়েক লক্ষ ক্রেতা। পৌঁছোয়নি শাকসবজি, ফল, দুধ, মাংস ও মাছের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এর পরেই ক্ষুব্ধ ক্রেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নীতি আয়োগের সিইও অমিতাভ কান্তের প্রতি তঁাদের ক্ষোভ উগরে দেন। পরে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য সচিবদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ডিপার্টমেন্ট অফ প্রোমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের হোম ডেলিভারি যাতে পুলিশ না আটকায়, তা দেখতে বলা হয়েছে মুখ্য সচিবদের।  
বুধবার ফরিদাবাদে বন্ধ করে দেওয়া হয় গ্রোফার্স–‌এর গুদাম। বিগ বাস্কেট–‌এর অভিযোগ, পুলিশ মাঝপথে তাদের পণ্য আটকে দেয়। মারধরও করে কয়েকজন কর্মীকে। সংস্থার পক্ষে টুইটে জানানো হয়, ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কেন্দ্রের স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে আমরা অর্ডার সরবরাহ করতে পারিনি।’ বিগ বাস্কেট–‌এর তরফে বিবৃতিেত বলা হয়, তাদের ডেলিভারি ভ্যান এবং বাইকগুলিকে পুলিশ যাতে না আটকায়, সেজন্য কেন্দ্র ও রাজ্য এবং রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলা হবে। তবে তারা এখন নতুন করে আর অর্ডার নিচ্ছে না। ফ্রেশ টু হোমস সংস্থাও জানায়, তাদেরও কাজ করতে অসুবিধে হচ্ছে। ফ্লিপকার্ট–‌এর চিফ কর্পোরেট অফিসার জানিয়েছেন, কর্মীদের নিরাপত্তার কারণে তঁারা আপাতত অর্ডার নেওয়া স্থগিত রাখছেন। অ্যামাজনও জানিয়েছে, আপাতত তারা কোনও অর্ডার নেবে না। কম গুরুত্বের পণ্যের অর্ডার বাতিল করে টাকা ফেরত েনওয়ার আর্জি জানিয়েছে তারা।
অর্ডার দিয়েও মাল না পেয়ে এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন গ্রাহকেরা। এক গ্রাহক টুইট করেন, ‘সব ই–কমার্স বন্ধ। বিশ্বাস করুন, গ্রোফার্স, বিগ বাস্কেট, ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজন, বিগ বাজার— সব ক’‌টাতেই আমি চেষ্টা করেছি। কেউ বলছেন সার্ভার ডাউন। কেউ বলছেন পরিষেবা বন্ধ। কেউ বলছেন ৩১ মার্চের আগে কোনও ডেলিভারি নয়। তা হলে ভাবুন, কোথায় গেল ডিজিটাল ইন্ডিয়া!‌’ এতজনের ক্ষোভের অঁাচ পেয়ে নড়েচড়ে বসেন নীতি আয়োগের সিইও অমিতাভ কান্ত। তিনি বিগ বাস্কেট–‌কে টুইট করেন, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগ করুন, কোন্‌ রাজ্যের কোথায় এমন ঘটেছে জানান। তথ্য পেলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। সরকারি নির্দেশিকায় এ–‌সব ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখব যাতে নাগরিকেরা সমস্যায় না পড়েন।’ গ্রোফার্স–‌কে টুইটে কান্ত জানান, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় কোল্ড স্টোরেজ, ওয়্যারহাউজ, ই–‌কমার্সের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য ও ওষুধের সরবরাহ ইত্যাদিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমি হরিয়ানার মুখ্য সচিব ও ডিজিপি–‌র সঙ্গে কথা বলেছি। সরবারহ যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য ওঁরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছেন।’ এরই মধ্যে এই সুযোগে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও গুরুগ্রামে এদিন চুটিয়ে হোম ডেলিভারি শুরু করে বিগ বাজার। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের কাছে এত ফোন আসতে শুরু করে যে কোম্পানি জানায়, বিধিনিষেধের কারণে হোম ডেলিভারি পৌঁছোতে কিছুটা দেরি হতে পারে। এ ছাড়া দেশ জুড়ে অনেক বহুতলের গেট বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় অনলাইন ডেলিভারি সংস্থাগুলিকে।

জনপ্রিয়

Back To Top