রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি, ২৫ মার্চ- রাজনৈতিক চাপে নতিস্বীকার না–করলেও আপাতত করোনার জেরে পিছু হঠতে হল কেন্দ্রীয় সরকারকে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল বিতর্কিত জনপঞ্জি (‌এনপিআর)‌ সাম্প্রতিকীকরণের কাজ। সেইসঙ্গে স্থগিত হল জনগণনার প্রথম ‌পর্বের কাজ। এই দুটি কাজ একসঙ্গে চলার কথা ছিল এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে ১৪ এপ্রিলের পর। বুধবার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। 
বুধবার থেকে গোটা দেশে আপাতত ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই পরিস্থিতিতে এনপিআর এবং জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। আলোচনা চলছিল নানা মহলে। এর মধ্যে জাতীয় জনপঞ্জি বা এনপিআর–‌এর কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, ‘কোভিড ১৯–‌‌এর জন্য যেহেতু সমগ্র দেশে ‌লকডাউন চলছে, তাই আপাতত ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (‌এনপিআর)‌ তৈরির কাজ স্থগিত রাখা হচ্ছে। ১৪ এপ্রিল লকডাউন উঠে গেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা  হবে।’‌ 
মোট দুটি ধাপে জনগণনার কাজ হওয়ার কথা। প্রথম পর্যায়ে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছ’‌মাস ধরে দেশ জুড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাড়ি চিহ্নিতকরণ ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি জনপঞ্জি বা এনপিআর–এর সাম্প্রতিকীকরণের কাজ হওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে জনগণনার কাজ হওয়ার কথা ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু, পুরো দেশ এখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী নিজেই গতকাল প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বলেছেন, এখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই হল প্রাথমিক কাজ। এই অবস্থায় বিতর্কিত এনপিআর বা জনগণনার কাজ আদৌ সম্ভব ছিল না। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই সমস্ত কাজ আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হল।
এনপিআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কারও অজানা নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নথিতে এনপিআর–কে এনআরসি‌–‌র প্রথম ধাপ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জি তৈরির কাজে ঘোর আপত্তি আছে বিরোধী দল–‌‌সহ কয়েকটি এনডিএ শরিক দলেরও। এনপিআর–‌‌এর মাধ্যমে জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা এনআরসি–‌‌তে কাজে লাগানো হবে, এই অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল–‌‌সহ অন্য বিরোধী দলগুলি। মুখ্যমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এনপিআর বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, রাজস্থান এবং পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলি এনআরসি–‌র প্রথম ধাপ হিসেবে এনপিআর–‌‌এর বিরোধিতা করেছে। কিছু রাজ্যে এনপিআর–‌‌বিরোধী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top