আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মা ঠাকুমারা ছোটবেলা থেকে শেখান, ভাত ফেলবে না। খাবার নষ্ট করবে না। কিন্তু আমরা ক’জন এই শিক্ষা নিই, তা নিয়ে সন্দেহ যথেষ্টই। সেই জন্যই আমরা দেখে থাকি হোটেলে, রেস্তোরাঁয়, অনুষ্ঠান বাড়িতে কত কত খাবার নষ্ট হয়, ফেলে দেওয়া হয়। কারোর পেটে যায় না। 
পরিবেশবিদরা বলেন, গোটা বিশ্বে যা খাদ্য তৈরি হয়, তার এক তৃতীয়াংশ স্রেফ পচে নষ্ট হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়। পৃথিবীর মোট জল ভান্ডারের ২৫ শতাংশ খরচ হয় সেই খাদ্য তৈরির জন্য, যা খাওয়াই হয় না।
ইদানিং অবশ্য রবিনহুড আর্মির মতো অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়মিত হোটেল রেস্তোরাঁ বা বিয়েবাড়ি থেকে বাড়তি খাবার সংগ্রহ করে অভুক্তদের মুখে তুলে দেয়। কিন্তু এত কিছুর পরেও কি চৈতন্য ফিরছে? খাবার নষ্ট করার প্রবণতা কি কমছে? এই ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে এসেছে কর্নাটকের কুর্গের একটি রেসর্ট। যারা সম্প্রতি ঠিক করেছে, কেউ খাবার নষ্ট করলে তার জন্য বাড়তি কড়ি গুণতে হবে।
কুর্গ পাহাড়ের ওই স্পা রিসর্ট ঠিক করেছে, অতিথি খাবার নষ্ট করলে প্রতি ১০ গ্রাম খাবারের জন্য ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। খাওয়ার শেষে গেস্টদের সামনেই পাতে পড়ে থাকা ওই খাবারদাবার ওজন করা হবে। এবং ওজনের ভিত্তিতে জরিমানা হলেও তক্ষুনি তা দিতে হবে না। কিন্তু দিতে হবে চেক আউট করার সময়ে। সেই টাকা ডোনেশন বক্সে ফেলা হবে। এবং সেই টাকা যাচ্ছে এমন একটি সংস্থার কাছে যারা অনাথ শিশুদের মুখে খাবার তুলে দেয়।
ওই রিসর্টের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা চালু করার পরে কিন্তু খাবার নষ্টের প্রবণতা বেশ খানিকটা কমেছে। কিছু দিন আগেও ফেলে নষ্ট করা খাবারে ভরে যেত ১৪টি ওয়েস্ট বিন। এখন দেখা যাচ্ছে, দুটি একটি বিনেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এই ব্যবস্থা তাঁরা চালাবেন। এখন দেখার দেশের অন্যান্য হোটেল রেস্তরাঁও এমন কিছু পথ নেয় কি না।

জনপ্রিয়

Back To Top