পিটিআই, দিল্লি: সিবিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বহীন করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। আর সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশন (‌সিভিসি)‌–‌‌এর কাঁধে ভর করে ‌‘‌রাজনৈতিক গোলাগুলি’‌ ছুঁড়ছে। সরকারের সঙ্গে জোট করে ‘‌সংবিধানের অবমাননা করছে সিভিসি’‌। অলোক বর্মার অপসারণ প্রসঙ্গেই এই প্রতিক্রিয়া কংগ্রেসের। 
প্রমাণ ছাড়া, অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে অলোক বর্মাকে সরিয়ে দেওয়ায় সিভিসি–‌‌কে একহাত নিয়েছেন দলের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর অভিযোগ, বর্মাকে সরাতে তৎপর ছিল সিভিসি, কিন্তু রাফাল দুর্নীতিতে সমস্ত প্রমাণ হাতে পেয়েও হাত গুটিয়ে আছে। এটা দ্বিচারিতা। সিংভির কথায়, ‘‌রাফালের প্রকৃত সত্যি এড়িয়ে, ভয় পেয়ে কাপুরুষের মতো সিভিসি–‌‌র কাঁধে বন্দুক রেখে তা চালাচ্ছে মোদি সরকার। এতে সিবিআইয়ের মতো নিরপেক্ষ তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। সিভিসি যেভাবে এক হঠকারী, মরিয়া সরকারের কাছে নিজেদের অবনত করছে, তা একইসঙ্গে উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়।’‌
বিভিন্ন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে সরাকরি হস্তক্ষেপ এবং দেশে বলবৎ থাকা ‘‌একনায়কতন্ত্রকে’‌ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছে কংগ্রেস, এ কথা স্পষ্ট করে সিংভির সংযোজন, ‘‌এই অধ্যায়ের সমাপ্তির সূচনা দেখছি আমরা।’‌ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিটি সমালোচনা বা হার স্বীকার করতে পারেন না। তাই ছেঁদো উপায়ে, ক্ষমতার অপব্যবহারে নিজের মত প্রকাশে মরিয়া। প্রধানমন্ত্রী সিভিসি–‌র তদন্ত ওলটপালট করে দেশকে বিভ্রান্ত করছেন। এমন মারাত্মক অভিযোগও করেছেন সিংভি। আরও বলেছেন, ‘‌সংবিধান প্রদত্ত পদাধিকারীদের অপসারণের ভিত্তি যদি নেহাতই কিছু উড়ো অভিযোগ, সন্দেহজনক প্রমাণ হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং শাসক দলের সভাপতির সবথেকে উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা।’‌
রাফাল দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে সিংভি বলেছেন, অলোক বর্মার মামলা নিয়ে যতটা তৎপরতা দেখিয়েছে সিভিসি, সিবিআইয়ের স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে প্রমাণ স্বত্ত্বেও তা দেখাচ্ছে না। ঠিক যেমন রাফালের যাবতীয় প্রমাণ পেয়েও নড়েচড়ে বসছে না। আস্থানার আবেদন খারিজ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। সিবিআইকে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে বলেছে। তা সত্ত্বেও সিভিসি–‌র বিরুদ্ধাচরণ চমকপ্রদ!‌ জানিয়েছেন কংগ্রেস মুখপাত্র। বলেছেন, বর্মাকে তাঁর পক্ষে সাফাই পেশ করার আগেই তাঁকে সরিয়ে না দিলেই ভাল করত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচকমণ্ডলী। 

রাহুল গান্ধী। পেছনে, স্যাম পিত্রোদা। দুবাইয়ে। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top