আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কেউ শুয়ে পড়েছেন রেললাইনের উপরে। কেউ বা বড় বড় পা ফেলে এগোচ্ছেন। কারও হাতে ঝান্ডা আছে। কেউ স্লোগানে ব্যস্ত। কোথাও আটকানো হয়েছে রাস্তা–কৃষকদের এই নানা চেহারা দেখেছে শুক্রবারের ভারত। সদ্য পাশ হওয়া তিনটি কৃষি বিলের বিরুদ্ধে শুক্রবার কৃষক সংগঠনগুলি দেশজোড়া বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল। কংগ্রেস, তৃণমূল সহ দেশের অধিকাংশ বিরোধী দল নীতিগত সমর্থন জানায় এই বন্‌ধকে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, বিহারেও হয়েছে প্রতিবাদ বিক্ষোভ। 
পাঞ্জাব ও হরিয়ানাতে এই বন্‌ধের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। অমৃতসর, জলন্ধর, লুধিয়ানা, আম্বালা, চণ্ডীগড়–সহ সেখানকার বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ করেছেন বিভিন্ন কৃষক সংগঠনগুলি। সেখানে বহু ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে। 
কৃষক বিক্ষোভে পাঞ্জাবে দেখা গিয়েছে এক অন্য ছবি। তিনটি কৃষি বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল হন ২০ বছরের দুই কলেজ পড়ুয়া। ৩৩ বছরের এক যুক্তিবাদী ও স্কুলের গন্ডি না টপকানো এক তরুণী।
বার্নালার সৌহর গ্রামের এক কৃষক পরিবারের সন্তান ও সাংবাদিকতার চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী ২০ বছরের সুমনদীপ কৌর ছিলেন প্রতিবাদ বিক্ষোভে। তিনি বলেছেন, ‘‌এই জমি থেকেই বিপ্লব শুরু হয়েছে। পাঞ্জাব জেগে উঠলেই ইতিহাস বদলেছে।’‌ ভারতীয় কৃষক ইউনিয়নের ধর্নায় হাজির ছিলেন সুমনদীপ। বাবা কিওয়াল সিংয়ের সঙ্গে সেই পাঁচ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছেন সুমনদীপ। তাঁর কথায়, ‘‌পাতিয়ালার পাঞ্জাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পড়ি। কিন্তু করোনা মহামারীর জন্য দীর্ঘদিন বাড়িতে রয়েছি। কৃষি বিল পাশ করানোর জন্য সরকারের এত তাড়া ছিল কেন?‌ আমাদের তো কোনও সমস্যা এতদিন হয়নি।’‌
অমৃতসরের গুরুনানক দেব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নীলকমল। বার্নালার ছটি গ্রামে তিনিও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‌আমাদের বাড়ি ঠিকরিওয়ালে। এই গ্রামে থাকতেন স্বাধীনতা সংগ্রামী সেবা সিং ঠিকরিওয়াল। বিপ্লব আমাদের রক্তে রয়েছে।’‌ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘‌আমাদের কোনও জমি নেই। অন্যের জমিতে চাষ করি। এই করোনা মহামারীর মধ্যে কৃষি বিল পাশ করানো কৃষক বিরোধী। তাই আন্দোলন করছি।’‌ তাঁর বাবা ইয়াদবিন্দার সিং ঠিকরিওয়াল বলেছেন, ‘‌আমি বার্নালার এক সিভিল হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করি। কৃষি বিলের বিরোধিতায় ইনকিলাবি মার্চ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।’‌
স্ত্রী জাগৃতি মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ৩৩ বছরের আমনদীপ কৌর দেওল তাঁর তিন বছরের কন্যাকে নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। পাতিয়ালায় অবরোধ করতে গিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘‌আমার বাবা কৃষক। তাই কৃষকদের সমস্যাটা বুঝি। কৃষি বিল পাশ করিয়ে বেসরকারী সংস্থাকে বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। যার ফলে কৃষকদের আয় কমবে। এর প্রভাব পড়বে কৃষকদের পরিবারে।’‌
মানসা জেলারা আকালিয়া গ্রামের ১৮ বছরের স্কুল ছুট হরমনজ্যোত কৌর আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‌আমার মা–বাবা কাজ করতে পারেন না। তাই আমাকে মাঠে কাজ করতে হয়। কৃষিকাজ আমার রক্তে।’‌ তাঁর মা কুলদীপ কৌরের কথায়, ‘‌আমাদের সামান্য জমি আছে। সেখানে গম ও ধান চাষ হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের কথা শুনুন। এই কৃষি বিলের বিরোধী আমরা। কৃষকরা রাস্তায় নেমে এসেছে। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আশা করব প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমস্যা বুঝবেন।’‌   

জনপ্রিয়

Back To Top