আজকাল ওয়েবডেস্ক: মৃত পাইলট‌ অখিলেশ শর্মার স্ত্রী এখনও জানেন না তাঁর স্বামী আর নেই। ১৫ দিনের মধ্যে সন্তানের জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা তাঁর।
‘‌বন্দে ভারত’‌ মিশনের বিমানে চেপে দুবাই থেকে দেশে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন ১৮৪ জন ভারতীয়। শেষ মুহূর্তের দুর্ঘটনায় রানওয়ে থেকে পিছলে খাদে পড়ে দু’‌টুকরো হয়ে যায় সেই বিমান। সন্ধ্যে ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ কারুপুর বিমান বন্দরে অবতরণের সময় ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমানটির দু’জন পাইলটেরই মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর আগে নিজেদের বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে গেলেন বায়ুসেনার প্রাক্তন পাইলট ক্যাপ্টেন দীপক বসন্ত সাঠে এবং ক্যাপ্টেন অখিলেশ শর্মা। 
৩২ বছরের পাইলট ক্যাপ্টেন অখিলেশ শর্মা দু’‌বছর আগেই বিয়ে করেছিলেন। ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর স্ত্রী মেঘা (‌২৯)‌ সন্তানের জন্ম দিতে পারেন। তাই এই সময়ে তাঁকে এই দুঃসংবাদ দেওয়া হবে না বলে স্থির করেছেন শর্মা পরিবার। উত্তরপ্রদেশের মথুরায় গোবিন্দ নগরের বাসিন্দা ছিলেন ক্যাপ্টেন অখিলেশ শর্মা। তাঁর ভাই লোকেশ শর্মা (‌২৪) জানালেন,‌ ‘‌প্রাথমিকভাবে আমরা খবর পেয়েছিলাম যে বিমান দুর্ঘটনায় দাদার (অখিলেশ) অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে পরে শুক্রবার রাতেই তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। আমার আরেক দাদা ভুবনেশ (‌২৮)‌ ও জামাইবাবু সঞ্জীব শর্মা দিল্লি হয়ে কোঝিকোডে রওনা হলেন তারপরেই।’‌ দাদার মতো লোকেশও কমার্শিয়াল পাইলট হতে চান বলে জানালেন। ‘‌আমরা বৌদিকে (‌মেঘা)‌ এখনও জানায়নি দাদার মৃত্যুর কথা। তিনি এখন সন্তান সম্ভবা। যদিও প্লেন দুর্ঘটনার কথা তিনি জানেন।’ লোকেশের কথা থেকে জানা যায়, অখিলেশ মথুরার অমরনাথ কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপরে মহারাষ্ট্রে গিয়ে তিনি সিএই অক্সফোর্ড এবিয়েশন অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন পাইলট হওয়ার লক্ষ্যে। এয়ার ইন্ডিয়া সংস্থায় পাইলট হিসেবে নিযুক্ত হন তিনবছর আগে। ২০১৮ সালে বিয়ে হয় অখিলেশের। মেঘা ও অখিলেশ কয়েকদিন বাদেই বাবা মা হবেন বলে উৎসবের আবহাওয়া ছিল পরিবারে। কিন্তু ভাগ্য সবটা কেড়ে নিল। এখন কেবল অখিলেশের মৃতদেহের অপেক্ষা। তারপর সৎকার।  ‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top