আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌কেন্দ্র নিজেই আইন ভেঙেছে’‌। জিএসটি ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে ক্যাগের রিপোর্টে বেশ অস্বস্তিতে মোদি সরকার। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বলছে, ২০১৭–’‌১৮ এবং ২০১৮–’‌১৯ অর্থ বর্ষে সেস চাপিয়ে তুলে আনা ৪৭,‌২৭২ কোটি টাকা জিএসটি ক্ষতিপূরণ খাতে রাখার পরিবর্তে কনসোলিডেটেড ফান্ডে সরিয়েছে অর্থমন্ত্রক। ওই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে অন্য খাতে। যার ফলে হিসেবের খাতায় বেড়েছে সরকারের আয়। অর্থাৎ কমিয়ে দেখানো হয়েছে রাজকোষ ঘাটতিও। 
অডিটর বলছেন, সেস চাপিয়ে তুলে আনা অর্থ অন্য খাতে সরানোর জেরে জিএসটি ক্ষতিপূরণ খাতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে (‌যাকে শর্ট ক্রেডিটিং বলা হয়‌)‌‌। ওই টাকা শুধুমাত্র রাজ্যের জিএসটি ঘাটতি মেটাতেই ব্যবহার করতে পারে কেন্দ্র, জিএসটি আইনেই তা স্পষ্ট করে বলা আছে। শর্ট ক্রেডিটিং–এর কারণে লঙ্ঘিত হয়েছে জিএসটি কমপেনশেসন সেস অ্যাক্ট, ২০১৭। বলছে ক্যাগের রিপোর্ট। 
রিপোর্টে জানানো হচ্ছে, ২০১৮–’‌১৯ বর্ষের বাজেটেই বলা হয়েছিল, জিএসটি ক্ষতিপূরণ খাতে ৯০ হাজার কোটি টাকা রাখা হবে। এবং সেই টাকা রাজ্যের জিএসটি ঘাটতি মেটাতে খরচ করা হবে। সেই বছর সেস চাপিয়ে ৯৫,‌০৮১ কোটি টাকা তুলে আনার পরও মাত্র ৫৪,‌২৭৫ কোটি টাকা জিএসটি ক্ষতিপূরণ খাতে রাখা হয়েছে। ১৫ হাজার কোটি টাকা আগে থাকায় ভাঁড়ারে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৯,‌২৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ শর্ট ক্রেডিটিং–এর পরিমাণ ওই অর্থ বর্ষে ৩৫,‌২৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে রাজ্যের জিএসটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে খরচ করা হয়েছে মাত্র ২০,‌২৭৫ কোটি টাকা। কিন্তু বাজেটে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সেস থেকে উঠে আসা আয় অর্থাৎ পুরো ৯০ হাজার কোটি টাকাই রাজ্যের জিএসটি ঘাটতি মেটাতে খরচ করা উচিত ছিল কেন্দ্রের। 
ক্যাগের রিপোর্টে গরমিল ধরা পড়তেই অর্থমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, জিএসটি ক্ষতিপূরণ খাতের টাকা কনসোলিডেটেড ফান্ডে রাখা হয়নি, বরং আগামী বছরগুলিতে তা রাজ্যের জিএসটি ঘাটতি মেটাতেই খরচ করা হবে। রিপোর্ট পরিষ্কার জানাচ্ছে, জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ রাজ্যের প্রাপ্য, আর্থিক সাহায্য নয়। 
শুধু জিএসটি ক্ষতিপূরণ তহবিলের ক্ষেত্রেই নয়, রাস্তা, পরিকাঠামো, অপরিশোধিত তেল, খনিজ সহ বিভিন্ন খাতে আরও ৩৫ রকমের সেস চাপিয়ে উপার্জিত অর্থ রিজার্ভ ফান্ডে জমা রাখে কেন্দ্র। ২০১৮–’‌১৯ বর্ষে কেন্দ্রের আয় হয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এখান থেকেও এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ কনসোলিডেটেড ফান্ডে সরিয়ে বাকি ১,‌৬৪,‌৩২২ কোটি টাকা রিজার্ভ ফান্ডে রাখা হয়েছে।‌ বলছে ক্যাগের রিপোর্ট।   

জনপ্রিয়

Back To Top