আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার সিংয়ের হত্যায় এপর্যন্ত মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানালেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা আনন্দকুমার। তিনি জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত যোগেশরাজকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে সে কোনও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা স্পষ্ট করেননি এডিজি। সুবোধ কুমারের অটোপসি রিপোর্টে ০.‌৩২ মিলিমিটার বোরের বুলেটের ক্ষত রয়েছে। এডিজি জানালেন, বিক্ষোভে মৃত যুবক সুমিতের শরীর থেকেও বুলেট মিলেছে। তবে চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই সেই বুলেট কত বোরের তা জানা যাবে।
সুবোধ কুমারের বোন মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, যেহেতু তাঁর দাদা মহম্মদ আখলাক খান হত্যার তদন্ত করছিলেন, সেজন্য পুলিসই ষড়যন্ত্র করে তাঁকে মেরে দিয়েছে।

সেই অভিযোগ সম্পর্কে আনন্দ কুমার বলেছেন, সোমবারের ঘটনায় গোয়েন্দা বিভাগের কোনও ব্যর্থতা ছিল কি না তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়ার আগে বলা সম্ভব নয়। তবে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনও পুলিসকর্মীর বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা হবে না।
এদিন পূর্ণ মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর সুবোধ কুমারের মরদেহ তাঁর শহর এটায় নিয়ে যাওয়া হলে স্বামীর কফিন জড়িয়ে ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী। তাঁদের ছেলে, অভিষেক বলেন, তাঁর বাবা তাঁকে সব ধর্মকে সম্মান করতে শিখিয়েছিলেন, অথচ তাঁকেই সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার হতে হল। সুবোধ কুমারের পরিবারকে ৪০ লক্ষ, তাঁর বৃদ্ধ বাবা, মাকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এদিকে অন্যতম পলাতক অভিযুক্ত জিতেন্দ্রর মা অভিযোগ করেছেন, তিনি যখন বাড়িতে ছিলেন না তখন, কমপক্ষে ৭০ জন পুলিসকর্মী কোনও মহিলা পুলিস ছাড়াই তাঁদের ঘরে ঢুকে তল্লাশির নামে সব কিছু তছনছ করে, তাঁর পুত্রবধূকে মারধর করে চলে গিয়েছে।

   
সোমবার বুলন্দশহরের মাহাও গ্রামের সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনার তদন্ত করছে সিট। মোট দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। গো হত্যার অভিযোগ নিয়ে প্রথম এফআইআরটি দায়ের করেছিল মূল অভিযুক্ত যোগেশরাজ। হিংসা নিয়ে দায়ের করা দ্বিতীয় এফআইআরে ২৭ জনের নাম রয়েছে। এছাড়া আরও অজ্ঞাতপরিচয় ৬০ জনের নামও রয়েছে এফআইআরে। দু’‌দিনের মধ্যে পুরো ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সুবোধ কুমারের গাড়ির চালক রাম আস্রে সোমবারই জেরায় পুলিসকে জানান, বিক্ষোভকারীদের পাথরে জখম হয়েছিলেন সুবোধ কুমার। তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় জনতা ফের তাঁদের গাড়িতে হামলা করলে তিনি সুবোধ কুমারকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। তারপরের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top