আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আগামী অক্টোবর–নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা ভোট। তার প্রায় আট মাস আগে থেকেই শাসক–বিরোধী দলের মধ্যে তরজা তুঙ্গে। প্রধান বিরোধী দল আরজেডি–কে ব্যঙ্গ করে পোস্টার দিল শাসকদল জেডিইউ। পোস্টারে আরজেডি–কে সামাজিক ন্যায়বিচারের মিথ্যা বড়াইকারী বলে ব্যঙ্গ করে জেডিইউ লিখেছে, তারা এক দলিতের নামে আর্থিক প্রতারণা করেছে। পোস্টারে দেখা যাচ্ছে একটা বড় বাসের মাথায় আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব এবং তাঁর ছোট ছেলে তথা দলীয় নেতা তেজস্বী যাদব দাঁড়িয়ে আছেন তাঁদের দলীয় প্রতীক হ্যারিকেন হাতে নিয়ে। আর বাসটি প্রায় গিলে খেতে আসছে এক দরিদ্র মানুষকে যাঁর ঘাড়ের উপরও একটি ছোট বাসে লেখা আছে ‘‌বিপিএল বাস’‌।
ঘটনার সূত্রপাত, তেজস্বী যাদবের ‘‌বেরোজগারি হঠাও রথ যাত্রা’‌ শীর্ষক মিছিলের জন্য ব্যবহৃত বাস ‘‌যুব ক্রান্তি রথ’‌–এর রেজিস্ট্রেশন এক বিপিএল কার্ডধারীর নামে করানোয়। রাজ্যের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের দাবিতে ওই মিছিলের আয়োজন করেছেন তেজস্বী। বিহার মন্ত্রিসভার সদস্য নীরজ কুমারের অভিযোগ, দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মঙ্গল পাল নামে এক ব্যক্তির নামে ওই বাসের রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন তেজস্বী।

এভাবে সরকারের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করেছেন তিনি। ওই বাস কেনার টাকা আরজেডি কোথা থেকে পেয়েছে সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এজন্য আরজেডির কাছে জবাবদিহি চাইলেও তারা এখনও তা দেয়নি বলে অভিযোগ নীরজের।
যদিও পুরো ঘটনা অস্বীকার করে মঙ্গল পালের পাল্টা দাবি, তিনি বিপিএল তালিকাভুক্ত নন। তিনি একজন ঠিকাদার। যাঁর কাছে তিনি ঠিকাদারি করেন, সেই মালিকই তাঁর নামে ওই বাসটি কিনেছেন। কর্মসংস্থানের দাবিতে তেজস্বীর ওই রথযাত্রা প্রসঙ্গে জেডিইউ বিধায়ক অমরনাথ ঘামির প্রতিক্রিয়া, কেন্দ্রের সহায়তা ছাড়া একা বিহার সরকারের পক্ষে কর্মহীনতা দূর করা অসম্ভব।
দিন কয়েক আগেই আরজেডি–র দেওয়া পোস্টারে তিরবিদ্ধ, রক্তাক্তভাবে বিহারের মানচিত্রের উপর সহাস্যমুখে দাঁড়িয়ে থাকা মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে দেখা গিয়েছিল। যার নীচে লেখা ছিল, ‘‌রক্তাক্ত হল বিহার, আর শিকারি সরকার।’ বিধানসভা ভোটের এতোদিন আগে থেকেই শাসক–বিরোধী দলের এই পোস্টারযুদ্ধে সরগরম হয়ে উঠেছে বিহারের রাজনীতি।
ছবি:‌ এএনআই‌        ‌      

জনপ্রিয়

Back To Top