সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: ব্যাঙ্কে একজন গ্রাহকের যত টাকাই জমা থাকুক, ব্যাঙ্ক কোনও কারণে বন্ধ হলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার। শোনা যাচ্ছিল, আমানতের এই বিমার অঙ্ক বাড়ানো হতে পারে। ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল ‘‌সহকার ভারতী’‌। যে অলাভজনক বেসরকারি সংস্থার অনেক কর্তাই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত। সেই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে খোদ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও জানান, সরকারও সে ‌কথা ভাবছে। এবারের শীত অধিবেশনেই সংসদে এ সংক্রান্ত আইনটি সংশোধনে বিল আনতে পারে সরকার। কিন্তু সেরকম কোনও খবর এখনও নেই। জানাল সংশ্লিষ্ট ‘‌ডিপোজিট ইন্সিওরেন্স অ্যান্ড ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন’‌। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অধীন এই সংস্থা তথ্য জানার অধিকার আইনে দায়ের হওয়া এক আর্জির জবাবে জানিয়েছে, বাস্তবে এমন কোনও প্রস্তাব আছে কি না, বা কোনও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তাদের কাছে সে নিয়ে কোনও খবর নেই।
ব্যাঙ্কের জমা আমানতের পরিমাণ–নিরপেক্ষভাবে, ব্যাঙ্ক ফেল করা, বা দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এই ডিআইসিজিসি আইন (‌১৯৬১)‌ অনুযায়ী। বিমার এক লক্ষ টাকা প্রত্যেক গ্রাহককে দেওয়ার দায়িত্বও এই সংস্থারই। ভারতে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যাঙ্ক–সহ সমস্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক, এমনকী গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক ব্যাঙ্কের সমস্ত শাখা ডিআইসিজিসি–র এই বিমার আওতায় পড়ে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত সংস্থার কাছেই তাদের আইন বদল নিয়ে কোনও খবর না থাকার একটাই অর্থ, বিমার অঙ্ক বাড়ানোর দাবি এবং অর্থমন্ত্রীর সে নিয়ে উৎসাহ দেখানো সম্ভবত কথার কথা। বলা হয়েছে লোককে স্তোক দিতে। মহারাষ্ট্রের পিএমসি ব্যাঙ্কের দুর্নীতি এবং একাধিক ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও ঋণখেলাপের ঘটনায় যঁারা সন্ত্রস্ত, সেই সাধারণ মানুষকে ভরসা জোগাতে। অন্তত চলতি শীত অধিবেশনে এ সংক্রান্ত আইন বদলের প্রস্তাব পেশ হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top